kalerkantho


বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে—এমন তথ্য নিয়ে ভিন্নমত উঠে এসেছে দুই আলোচকের বক্তব্যে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলমের মতে, সোয়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের সবচেয়ে বড় সেতু পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় এর নদীশাসন করতে গিয়ে এখন নড়িয়া উপজেলা ভাঙছে। যদিও এর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাতের মতে, পদ্মা সেতু নির্মাণের সঙ্গে নড়িয়া ভাঙনের কোনো সম্পর্ক নেই। নড়িয়া নতুন করে ভাঙছে না। এটি ভাঙছে এখন থেকে পাঁচ বছর আগে থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামের সেমিনারে দুজনের কাছ থেকে এমন মন্তব্য উঠে আসে।

রাজনৈতিক বিবেচনায় শতবর্ষী মেয়াদি বদ্বীপ পরিকল্পনা যাতে বন্ধ না হয়—সে আবেদন উঠে এসেছে গতকালের সেমিনার থেকে। বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক নীতি-কৌশলও বদলে যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বনে প্রণয়ন করা দ্বীপ পরিকল্পনা যাতে বন্ধ না হয়। বক্তারা আরো বলেন, বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়নই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে গিয়েও নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হবে বলেও আগাম আভাস দিয়ে রাখেন বিশেষজ্ঞরা। জার্নালিস্ট ফর ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. উম্মে কুলসুম নভেরা, তথ্যসচিব আব্দুল মালেক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাকসুদ কামালসহ অন্যরা। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম। আর সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জার্নালিস্ট ফর ডেভেলপমেন্টের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাকসুদ কামাল বলেন, এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। কোনো কারণে সরকার পরিবর্তন হলেও যাতে এই পরিকল্পনা পরিবর্তন না হয় সে অনুরোধ করেন তিনি। মাকসুদ কামাল বলেন, এই পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে মানুষের উপকারের জন্য। জনবান্ধব কোনো সরকারই এই পরিকল্পনাকে বাদ দিতে পারবে না।

আইনুন নিশাত তাঁর বক্তব্যে বলেন, বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৩৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হবে। কিন্তু এত টাকা কোত্থেকে আসবে। যেসব খাত থেকে টাকা আসার কথা বলছে সরকার, তার মধ্যে একটি খাত হলো সবুজ জলবায়ু তহবিল জিসিএফ। কিন্তু এই খাত থেকে টাকা পাওয়া অনেক কঠিন। এখন পর্যন্ত পানিসংক্রান্ত মাত্র একটি প্রকল্প এই খাত থেকে টাকা পাওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তাই কারোর দিকে না তাকিয়ে থেকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া যেতে পারে। যেমনটা নেদারল্যান্ডসে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে স্লুইস গেটগুলো মারাত্মক ক্ষতি করছে। উপকূলীয় এলাকায় যেভাবে লবণাক্ততা বাড়ছে, তাতে এখন থেকে এ বিষয়ে জোর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

তথ্যসচিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, নদীতে পলি পড়ে সে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে নদীতে ড্রেজিং জরুরি। সরকারও ড্রেজিংয়ের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা, বরগুনা, বাগেরহাট জেলায় জনসংখ্যা কমছে। এর কারণ হলো লবণাক্ততা। অথচ অন্য জেলায় জনসংখ্যা বাড়ছে।

শামসুল আলম তাঁর প্রবন্ধে দেখিয়েছেন, বদ্বীপ পরিকল্পনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া নীল সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ড. আলম। বদ্বীপ পরিকল্পনায় ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এসব টাকা সরকারি তহবিল, বেসরকারি খাত, জিসিএফ তহবিলসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



মন্তব্য