kalerkantho


চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

শওকত আলী   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

দেশীয় শিল্প সুরক্ষা, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি ও অবিক্রীত চিনি বিক্রি করে লোকসান কমানোর পথ খুঁজছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি র সুগার ও সাদা চিনির আমদানি পর্যায়ে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে; যা বাস্তবায়িত হলে ভোক্তাকে বেশি দামে চিনি কিনতে হবে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি এ প্রস্তাবের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে প্রস্তাবটি আরো উচ্চপর্যায়ের সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জানা গেছে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও চিনিকলগুলোকে টিকিয়ে রাখতে র সুগার আমদানির বিদ্যমান রেগুলেটরি ডিউটি ২০ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ বহাল রেখে স্পেসেফিক ডিউটি প্রতি টনে দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার হাজার টাকা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুনভাবে সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে হিসাব করে দেখা গেছে, ভোক্তা পর্যায়ে চিনির খুচরা মূল্য পড়বে ৬০ টাকা। প্রস্তাবিত এই শুল্কহার বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর গড়ে ২২ লাখ টন চিনি আমদানির বিপরীতে সরকারের রাজস্ব দুই হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা বেড়ে এর পরিমাণ দাঁড়াবে পাঁচ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। তবে বৈঠকে চিনির বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বৈঠক শেষ হয়।

জানা গেছে, সব মিলিয়ে বর্তমানে আমদানির ওপর বিভিন্ন ধরনের শুল্ক রয়েছে ৪৬ শতাংশ। এ প্রস্তাবে এটি ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৬ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা চিনি বাজারে ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ প্রতি কেজি চিনিতে ১০-১২ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে।

সভায় এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিপক্ষে মত দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি। প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপসচিব মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ। তিনি বলেন, চিনির আমদানি পর্যায়ে শুল্ক বাড়ানো হলে সাময়িক সুবিধা পাওয়া যাবে; কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে ফলপ্রসূ হবে না। দেশে চিনির বাৎসরিক চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ টন। বিএসএফআইসি চাহিদার মাত্র ৮-৯ শতাংশ আমদানি ও উৎপাদন করে জোগান দেয়। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এ সময় শুল্ক বৃদ্ধি অনুকূল হবে কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে।

একই ধরনের মতামত দেন ট্যারিফ কমিশন ও এনবিআরের প্রতিনিধি। তাঁদের মতে, এ সময় শুল্ক বৃদ্ধি করা হলে চিনির দর বাড়তে পারে। এতে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেসরকারি খাত চিনির বাজারে জোগান দেয় ৯৮ শতাংশ। সরকারি খাত থেকে আসে ২ শতাংশ। এটা বাস্তবায়িত হলে প্রতি কেজির দাম বাড়বে ১২ টাকা। এই মুহূর্তে চিনির দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা কী?’

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এটা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। তবে শুল্ক পুনর্নির্ধারণ করলেও চিনির দাম ৬০ টাকার মধ্যেই থাকবে।

চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুই লাখ ৮৯ হাজার ১৪৯ টন চিনি মজুদ রয়েছে। এতে আগামী দুই বছর চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে চিনির শুল্কারোপ ও বাড়ানোর ক্ষেত্রে মতামত দিয়েছে বিএসএফআইসি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেন বৈঠকে বলেন, বর্তমান বাজারদর কমে যাওয়ায় বিরাট আর্থিক লোকসানের মুখে রয়েছে চিনিকলগুলো। প্রতি টন চিনির দাম ৫০ হাজার টাকার নিচে নেমে যাওয়ায় সরকারি প্রায় এক লাখ ৫১ হাজার টন চিনি অবিক্রীত থেকে যায়।

 

 



মন্তব্য