kalerkantho


শ্রম আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী শ্রমিক স্বার্থবিরোধী : স্কপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত শ্রম আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী শ্রমিক স্বার্থবিরোধী বলে মনে করেন শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতারা। সংগঠনের নেতারা বলেন, সংশোধিত এই আইন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মুখ রক্ষার আইন হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য দেন সংগঠন যুগ্ম সমন্বয়ক নাইমুল হাসান জুয়েল। আরো উপস্থিত ছিলেন স্কপের শীর্ষ নেতা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংশোধিত শ্রম আইনের কোনো কোনো ধারা বর্তমান শ্রম আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁরা জানান, কোনো কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের ৩০ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে ইউনিয়ন করার যে বিধান আইনের ১৭৯ ধারায় আছে, তা আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮-এর সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধপূর্ণ।

এ ছাড়া শ্রম আইনের ২৩ ধারা : অসদাচরণ এবং দণ্ডপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে শাস্তি, ২৬ ধারা : মালিক দ্বারা শ্রমিকের চাকরির অবসান, ২৭ ধারা : শ্রমিক কর্তৃক চাকরির অবসান, ১৮০ ধারা : ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতা—এসব ধারা সংশোধন করে শ্রম আইনকে গণতান্ত্রিক করতে হবে।

মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে উল্লেখ করে নেতারা আরো বলেন, মাতৃত্বকালীন ছুটিকে অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করা হলে নারী শ্রমিকদের চাকরির ধারাবাহিকতা থাকবে না, চাকরির দৈর্ঘ্য কমে যাবে, যা অন্যান্য অধিকারকে সংকুচিত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ রানা প্লাজা ধসের পর হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির সুপারিশ ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং ১৮৫৫ সালের ফ্যাটাল ইনজুরি অ্যাক্ট অনুযায়ী আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়েছিল। এমনকি রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের সর্বনিম্ন ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল।

অতীতের এসব দৃষ্টান্ত আমলে নিয়ে কর্মক্ষেত্রে নিহত শ্রমিকের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ দুই লাখ টাকা এবং চিরস্থায়ী পঙ্গু হলে আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে শ্রম আইনে। একজন শ্রমিকের জীবনের দাম দুই লাখ টাকা—এটা নিহত শ্রমিক ও তার পরিবারের সঙ্গে প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

শ্রম আইনে বিদ্যমান ৮৭ ধারার বিলুপ্তি চেয়ে নেতারা বলেন, ‘আমরা কোনো অবস্থাতেই একই দেশে শ্রমিকদের জন্য দুটি আইন মেনে নিতে পারি না। ফলে ইপিজেডসহ শিল্প-নির্বিশেষে সব শ্রমিকের একই অধিকার পেতে চাই।’

 



মন্তব্য