kalerkantho


ডিসিসিআইয়ের আলোচনাসভায় বক্তারা

এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে

ডিসিসিআইয়ের এসডিজি বিষয়ক আলোচনায় বক্তারা

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘এসডিজি অর্জনে বেসরকারি খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় গতকাল বৃহস্পতিবার বক্তারা এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই সভায় এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির এবং দি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম বক্তব্য দেন।

২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশের বাড়তি প্রায় ৯২৮ বিলিয়ন ইউএস ডলারের প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বেসরকারি খাত জ্বালানি অপ্রাপ্যতা এবং এর উচ্চমূল্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপ্রতুল অবকাঠামো, ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি, আইনগত দীর্ঘসূত্রতা এবং সর্বপোরি ঋণ প্রাপ্তির অপ্রতুলতা প্রভৃতি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।’ তিনি এসজিডির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরো বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় প্রায় এক লাখ একরের ভূমি ব্যাংক তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যা বেজার কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে দেশের বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এরই মধ্যে সরকার মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি তা যথাসময়ে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে। তিনি দেশের বেসরকারি খাতকে সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় স্থাপিত শিল্প-কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বমূলক অংশগ্রহণ একান্ত আবশ্যক। তিনি নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, শিক্ষা খাতের গুণগত ও আমূল সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

মাহবুবুল আলম বলেন, এসডিজির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা প্রদানের ওপর জোরারোপ করেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, এসডিজির তিনটি লক্ষ্য (৮, ৯ এবং ১২) সরাসরি বেসরকারি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, আমাদের দেশীয় বাজার বেশ বড় এবং এ বাজার উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আমাদের আরো উদ্যোগী হতে হবে। তিনি মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামো বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য করপোরেট করের হার কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিসহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তওফিকুল ইসলাম খান, মাল্টিমোড গ্রুপের পরিচালক তাফসীর মোহাম্মদ আওয়াল এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. এম এ রাজ্জাক অংশগ্রহণ করেন। আলোচকরা এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গতানুগতিক প্রণোদনা ছাড়াও নতুন কিছু প্রণোদনা প্রদান এবং উল্লেখযোগ্য হারে দুর্নীতি কমানোর আহ্বান জানান।

ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, পাওয়ার সেলর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, এমসিসিআইর সেক্রেটারি জেনারেল ফারুক আহমেদ, ডিসিসিআইর সাবেক ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম এস সেকিল চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মহসিন, ডিসিসিআইর সাবেক সহসভাপতি এম আবু হোরায়রাহ, সাবেক পরিচালক এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কইকা) আবাসিক প্রতিনিধি জো হুইন অংশগ্রহণ করেন।



মন্তব্য