kalerkantho


শিল্প খাতে অবদানে সিআইপি কার্ড পেলেন ৫৬ উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শিল্প খাতে অবদানে সিআইপি কার্ড পেলেন ৫৬ উদ্যোক্তা

এক অনুষ্ঠানে গতকাল শিল্পোদ্যোক্তাদের হাতে সিআইপি কার্ড তুলে দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

দেশের শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৫৬ জন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা পেলেন সিআইপি কার্ড। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৬ সালের জন্য বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে তাঁদের মনোনীত করা হয়। এর মধ্যে পাঁচ ক্যাটাগরিতে বৃহৎ শিল্পে ২৫ জন, মাঝারি শিল্পে ১৫ জন, ক্ষুদ্র শিল্পে ছয়জন, মাইক্রো শিল্পে একজন, কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে একজন আছেন। এর পাশাপাশি পদাধিকার বলে আছেন আরো আটজন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব ব্যক্তিদের হাতে সিআইপি (শিল্প) পরিচয়পত্র বা কার্ড তুলে দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। নির্বাচিতদের অনেকে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাঁদের প্রতিনিধিরা কার্ড গ্রহণ করেন। সিআইপি কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুল হালিম।

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পণ্য, উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় আয় বাড়ানোসহ দেশের অর্থনীতিতে অবদানের জন্য ‘সিআইপি (শিল্প) নির্বাচন নীতিমালা ২০১৪’ অনুযায়ী ব্যাবসায়িক ও ব্যক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখে পাঁচ ক্যাটাগরিতে ব্যবসায়ীদের সিআইপি হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, ‘সিআইপি হিসেবে নির্বাচিতদের বিশেষ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যা প্রদর্শন করলে একগুচ্ছ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সিআইপি কার্ডধারীরা এক বছরের জন্য কার্ড দেখিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ, ভ্রমণে প্রথম শ্রেণির নাগরিক সুবিধা পাবেন। ভ্রমণে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সিআইপিরা বিদেশ ভ্রমণের ভিসা পাওয়ার সুবিধার্থে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন দেবে। সরকারি হাসপাতালে নিজের ও স্ত্রী-সন্তানদের চিকিৎসার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কেবিন পাবেন। বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা থাকবে। সরকার শিল্পবিষয়ক নীতিনির্ধারণী কোনো কমিটিতে সিআইপিদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। এ ছাড়া বিদেশে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বৈঠকের সুযোগ পাবেন সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে।’

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সিআইপি হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তিরা এ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছেন।’

শফিউল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠু নীতিসহায়তা পেলে অর্থনীতিতে আরো অবদান রাখতে পারবে। সরকারের পাশে ব্যবসায়ীরা আছেন বলেই এ দেশে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। যেকোনো নীতি দীর্ঘদিন বহাল রাখা প্রয়োজন। এতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।’

সিআইপি কার্ড পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাতলুব আহমাদ কালের কণ্ঠেক বলেন, ‘কাজ করার পর সব স্বীকৃতি ভালো লাগে। সিআইপি কার্ডপ্রাপ্তদের সংখ্যা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। এ ছাড়া সিআইপি কার্ডে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা তা ঠিকঠাক মতো পাচ্ছে কি না তা সরকারকে কঠোর নজরদারি করতে হবে।

এফআইসিসিআই সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিআইপি কার্ড পাওয়ায় ভালো লাগছে। কার্ডপ্রাপ্তদের সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।’

বৃহৎ শিল্প : বৃহৎ শিল্প (উৎপাদন) ক্যাটাগরিতে ২০ জনকে সিআইপি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তিরা হলেন মেঘনা সিমেন্ট মিলসের উদ্যোক্তা পরিচালক সায়েম সোবহান, বিএসআরএম স্টিলসের চেয়ারম্যান আলী হোসাইন আকবর আলী, ইউনিভার্সেল জিন্সের এমডি মো. নাছির উদ্দিন, বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মো. পারভেজ রহমান, এসিআইয়ের এমডি ড. আরিফ দৌলা, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের এমডি আমের আলী হোসাইন, জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্যাব্রিকসের এমডি ছামাদ মো. রফিকুল ইসলাম (নোমান), কসমোপলিটন ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রাঃ)-এর পরিচালক তানভীর আহমেদ, আব্দুল মোমেন লিমিটেডের এমডি আবদুল মোনেম, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমসের এমডি আবু নোমান হাওলাদার, পাহাড়তলী টেক্সটাইল অ্যান্ড হোসিয়ারি মিলসের এমডি মির্জা সালমান ইস্পাহানি, ফারিহা নিট টেক্সের চেয়ারম্যান মো. মামুন ভূঁইয়া, এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি শামসুর রহমান, মেসার্স ভিয়েলাটেক্সের এমডি কে এম রেজাউল হাসানাত, সোহাগপুর টেক্সটাইল মিলসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, প্যাসিফিক জিন্সের মনোনীত মালিক পরিচালক সৈয়দ মো. তানভীর, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের এমডি অঞ্জন চৌধুরী, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, এনভয় টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন আহমেদ, বাদশা টেক্সটাইলের এমডি মো. বাদশা মিয়া।

বৃহৎ শিল্প (সেবা) পাঁচজনের মধ্যে আছে এসটিএস হোল্ডিংসের এমডি খন্দকার মরিন উদ্দীন, নাভানা রিয়েল এস্টেটের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম, কনকর্ড রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন, জিএমই অ্যাগ্রোর এমডি চৌধুরী হাসান মাহমুদ এবং শেলটেক (প্রাঃ) লিমিটেডের এমডি ড. তৌফিক এম সেরাজ।

মাঝারি শিল্প : মাঝারি শিল্প (উৎপাদন) ১২ জনের মধ্যে আছেন আরএফএল প্লাস্টিকসের পরিচালক আহসান খান চৌধুরী, প্রমি অ্যাগ্রো ফুডসের চেয়ারম্যান এনামুল হাসান খান, অকো টেক্সের এমডি আব্দুস সোবহান, মাধবদী ডায়িং ফিনিশিং মিলসের এমডি নিজাম উদ্দিন, ফু-ওয়াং ফুডসের এমডি আরিফ আহমেদ চৌধুরী, একোয়া মিনারেল টারপেনটাইন অ্যান্ড সলভেন্টস প্লান্টের এমডি রামজুল সিরাজ, মেসার্স সিটাডেল এপারেলসের এমডি মো. মাহিদুল ইসলাম, জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডসের এমডি আব্দুল জব্বার মোল্লা, বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশনের এমডি জেড এম গোলাম নবী, ইগলু ফুডসের পরিচালক এ এস এম মঈনউদ্দিন মোনেম, বিআরবি পলিমারের এমডি মজিবর রহমান, মোশাররফ স্পিনিং মিলসের এমডি মোশাররফ হোসেন।

মাঝারি শিল্প (সেবা) ক্যাটাগরিতে তিনজনের মধ্যে আছেন স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারসের চেয়ারম্যান খান মো. আফতাব উদ্দীন, শান্তা প্রপার্টিজের পরিচালক মিজ জেসমিন সুলতানা এবং বিল্ডিং ফর ফিউচারের এমডি তানভিরুল হক প্রবাল।

ক্ষুদ্র শিল্প : ক্ষুদ্র শিল্প (উৎপাদন) ক্যাটাগরিতে পাঁচজনের মধ্যে আছেন কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মো. মিজবার রহমান, ফুজি ইংক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মিজ ফারহানা মোমেন, আরএমএম লেদার ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, রানার ব্রিকসের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং সবজীয়ানা লিমিটেডের ডিএমডি মো. আবু শাহরিয়ার। ক্ষুদ্র শিল্প (সেবা) ক্যাটাগরিতে আছেন কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান নুরুল কাইয়ুম খান। মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে আছেন টেকনোমিডিয়ার এমডি যশোদা জীবন দেব নাথ। কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে আছেন এবি ফ্যাশন মেকারের স্বত্বাধিকারী সানাউল হক বাবুল।

পদাধিকারবলে : পদাধিকারবলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) তৎকালীন সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সেলিমা আহমাদ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তপন চৌধুরী এবং নাসিবের সভাপতি মির্জ্জা নূরুল গণি শোভন সিআইপি কার্ড পান।



মন্তব্য