kalerkantho


উদ্যোক্তা

‘চিকিৎসাসেবায় বড় রেফারেল নেটওয়ার্ক হবে ডক্টরোলা’

শরিফ রনি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘চিকিৎসাসেবায় বড় রেফারেল নেটওয়ার্ক হবে ডক্টরোলা’

মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ইমন, এমডি ও সিইও, ডক্টরোলা লিমিটেড

বছরতিনেক আগে চার বন্ধু মিলে চিকিৎসাসেবায় ভিন্নধর্মী এক উদ্যোগ নেন। সেটা হলো রোগীর সঙ্গে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে দেওয়া। শুধু তাই নয়, রোগীর অসুখের ধরন জেনে সঠিক চিকিৎসার পরামর্শও দেন তাঁরা। ফলে সিরিয়াল বিড়ম্বনা আর দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা থেকে মুক্তি পান রোগীদের অনেকে। এ কারণে দ্রুত পরিচিতি পায় ‘ডক্টরোলা’ নামের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ফোন, এসএমএস কিংবা ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে রোগীরা ডাক্তারের পরামর্শ পাচ্ছেন সহজেই। এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এখন ৬৩টি জেলার আট হাজার ৬০০ জন ডাক্তার যুক্ত।

ডক্টরোলার এমডি ও সিইও মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ইমন জানান, ‘ডক্টরোলার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য একটা শক্তিশালী রেফারেল নেটওয়ার্ক তৈরি করা। স্বাস্থ্য সচেতনতা থেকে শুরু করে কোথায় কোন পরীক্ষা করতে হবে সেই দিকনির্দেশনাও মিলছে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।’

সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ডক্টরোলার সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ডক্টরোলা হচ্ছে একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ। আমরা দীর্ঘদিন নানা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছি। ফলে আমরা চেয়েছি নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এমন কিছু করতে যাতে একটি সমস্যার টেকসই সমাধান হয়।’

‘এত বড় নেটওয়ার্ক দেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। আমরা ৫৫০টি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত আছি। এ তালিকায় আছে অ্যাপোলো, স্কয়ার এমনকি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালও। আমরা জানি কোথায় কতজন ডাক্তার আছেন। তাঁদের যোগ্যতা কী, কে কোন জিনিস দেখেন এবং কে কখন সময় দিতে পারবেন, কাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিতে হলে কী করতে হবে—সেই অ্যাপয়েন্টমেন্টটাও আমরা সরাসরি দিয়ে দিতে পারি।’ যোগ করলেন আব্দুল মতিন।

ঢাকার বাইরেও সাধারণ রোগীদের মধ্যে এই সেবা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জানিয়ে ডক্টরোলার শীর্ষ নির্বাহী বলেন, ‘ঢাকার বাইরে থেকে যাঁরা চিকিৎসা নিতে আসতে চান আমরা তাঁদের সরাসরি পরামর্শ দিই। শুরুতেই ঢাকা আসতে অনুৎসাহিত করি। আমরা রোগীকে জানিয়ে দিই তাঁর সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের নাম, ঠিকানা। তার পরও যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে ঢাকায় আসতে বলি। এ ছাড়া আমাদের অফিসে ডাক্তার আছেন যিনি সরাসরি ঢাকার বাইরের রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন অসুখটা চিহ্নিত করার জন্য।’

এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘এ দেশে অন্য আরেকটি সমস্যাও আছে। আমাদের একটু কানে ব্যথা হলেই আমরা লাফ দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় কান বিশেষজ্ঞের কাছে চলে যাই। কিন্তু মাঝখানে যে হাজার হাজার ইএনটি স্পেশালিস্ট রয়ে গেছেন, যাঁরা কোয়ালিফায়েড। আমরা তাঁদের এড়িয়ে যাচ্ছি। যার ফলে স্বাস্থ্য খাতে একটা ভারসাম্যহীনতা বিরাজ করছে।’

নতুন উদ্যোগে অর্থায়নের সমস্যা হবেই। আইডিয়াকে কেউ ফান্ড করে না। আইডিয়াকে প্রডাক্টে, তারপর প্রডাক্টকে বিজনেসে পরিণত করলে এবং সেটার যদি ক্রমউন্নতি থাকে তাহলে তাতে ফান্ড হয় স্বাভাবিক নিয়মে। ডক্টরোলা সেটা করতে পেরেছে বলে মনে করেন আব্দুল মতিন ইমন।



মন্তব্য