kalerkantho


আবারও তলানিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আবারও তলানিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম মাসটি রপ্তানি আয়ের বড় প্রবৃদ্ধি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও আগস্টে এসে যেন ধাক্কা খেল। এ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ও প্রবৃদ্ধি উভয়ই নেতিবাচক। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগস্টে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কম হয়েছে ০.৬০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আয় কম হয়েছে ১১.৭৪ শতাংশ।

আগস্ট মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর আয় হয়েছে ৩২১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের এ সময় আয় হয়েছিল ৩৬৪ কোটি ডলার। অথচ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯.৮৮ শতাংশ।

ইপিবির হিসাবে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.২৪ শতাংশ বেশি। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এ আয় ২.৫১ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে ইপিবি। চলতি অর্থবছরের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তিন হাজার ৯০০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে আয় হয়েছিল তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলার। সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫.৮১ শতাংশ।

ইপিবির দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই-আগস্ট মাসে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকে আয় হয়েছে ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.৯৬ শতাংশ বেশি। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩.৮২ শতাংশ বেশি।

নিট পোশাকে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৯১ কোটি ২৮ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬.৮৭ শতাংশ বেশি। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১.৫৩ শতাংশ। ওভেন পোশাকের রপ্তানিতে আয় হয়েছে ২৮২ কোটি ২২ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭৯ কোটি ১২ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.২৮ শতাংশ।

পোশাকের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে আসে। চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে এ খাতটি থেকে ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এই আয় ২৬.২৬ শতাংশ কম।

জুলাই-আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্যে ১৩ কোটি ১১ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫.৫৭ শতাংশ কম। এ ছাড়া আলোচ্য সময়ে হোম টেক্সটাইলে ১৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলার, হিমায়িত মাছে আট কোটি ৭২ লাখ ডলার, কৃষিজাত পণ্যে ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার আয় হয়েছে। আর এ পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৮ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্যে চার কোটি ৮৯ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৮৮ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গত মাসে রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে মূল কারণ ঈদুল আজহার ছুটি। এ জন্য আতঙ্কের কিছু নেই। এর আগের মাস জুলাইতে আমাদের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে মূল আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতি ধীরগতি হয়ে পড়েছে। সে জন্য রপ্তানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে এর মূল্যায়ন করা যাবে আগামী মাসগুলোতে।



মন্তব্য