kalerkantho


অর্থনৈতিক নেতৃত্বে চীন ও ভারত

তারুণ্যে ভর করে শক্তিশালী হচ্ছে এশিয়ার জিডিপি

বাণিজ্য ডেস্ক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



তারুণ্যে ভর করে শক্তিশালী হচ্ছে এশিয়ার জিডিপি

উদীয়মান একটি ভোক্তা শ্রেণি, সেই সঙ্গে কর্মক্ষম একদল তরুণ। এ দুইয়ে ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। চীন, জাপানের পাশাপাশি উদীয়মান দেশ হিসেবে বৈশ্বিক কাতারে চলে এসেছে ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের বিশ্ব অর্থনীতি ২০১৮ প্রতিবেদনে জানায়, দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ চীনের জিডিপি এ বছর বেড়ে হয়েছে ২৫.৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি। এর পরের অবস্থানে থাকা ভারতের জিডিপি বেড়ে হয়েছে ১০.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৯.৮ শতাংশ বেশি। জিডিপির নিরিখে তৃতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে জাপান। দেশটির জিডিপি ৫.৬১৯ ট্রিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটছে। নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আইএমএফ দীর্ঘ সময় থেকেই বলে আসছে ভালো সময় টেকসই হয় না তবে ভালো নীতি টেকসই হয়। তারুণ্যের শক্তিতে একের পর এক দেশকে অতিক্রম করে ফিলিপাইনের জিডিপি এখন ৯৫৫.২ বিলিয়ন ডলার। এটি এখন এশিয়ার শীর্ষ ১০ দেশের একটি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও অনেক শক্তিশালী। দেশটির জিডিপি ১.০০২ ট্রিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া এখন উদীয়মান দেশ, তাদের জিডিপি ৩.৪৯২ ট্রিলিয়ন ডলার। আর থাইল্যান্ড শিল্পসমৃদ্ধ নতুন দেশ। ২০১৭ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি এসেছে ৬ শতাংশ। জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১.২৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত এশিয়ার জনসংখ্যাই দেশগুলোর অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিচ্ছে। একদল যুবসমাজ দেশগুলোকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধ্য করছে। ভারত ও ফিলিপাইনে চাকরি জগতে আসা বেশির ভাগই তরুণ। তাদের চাকরির প্রয়োজন, সেই চাহিদা পূরণে সরকারগুলোও পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। অন্যদিকে বয়স্ক জনসংখ্যা বেশি থাকলেও চীন ও জাপান তাদের প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার করছে।

হংকংয়ের দায়ওয়া ক্যাপিটাল মার্কেট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ বসবাস করে এশিয়ায়। এ অঞ্চলে ভোক্তা ব্যয় প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। ভোক্তা ব্যয়কে ঘিরে এশিয়ার অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে এ গতি কতটুকু স্থায়িত্ব অর্জন করে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলনামূলক একটি তরুণ সমাজ, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং সম্পদের বৃদ্ধি এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। এশিয়া প্যাসিফিক রিসার্চের দায়ওয়ার প্রধান ইক্যুয়িটি স্ট্র্যাটেজিস্ট পল এম কিটনে বলেন, আগামী কয়েক দশকে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে ভোক্তা শ্রেণি। তবে বাণিজ্য সুরক্ষাবাদী নীতি এ ক্ষেত্রে একটি বাধা হতে পারে।

 



মন্তব্য