kalerkantho


ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক অফিস ম কাজের সুযোগ স্থানীয়দের

বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হবে ২৬ দেশের কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হবে ২৬ দেশের কার্যক্রম

গতকাল রবিবার রাজধানীর র‌্যাডিসন হোটেলে জেদ্দাভিত্তিক সংস্থাটির আঞ্চলিক অফিস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

ছয় বছর নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে ঢাকায় চালু হলো ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) আঞ্চলিক কার্যালয়। গতকাল রবিবার রাজধানীর র‌্যাডিসন হোটেলে জেদ্দাভিত্তিক সংস্থাটির আঞ্চলিক অফিস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আপাতত রাজধানীর আইডিবি ভবনের ১০ তলায় অফিসের কার্যক্রম চলবে। আঞ্চলিক অফিসের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উল্টো দিকে দুই একর জায়গায় নির্মাণ করা হবে বহুতল ভবন। সেখানেই স্থায়ী হবে আইডিবির আঞ্চলিক অফিস। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৬টি দেশে আইডিবির কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে ঢাকা অফিস থেকে। এর মধ্যে আইডিবির সদস্য দেশ যেমন রয়েছে; তেমনি সদস্য নয়, এমন দেশও রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ২৬টি দেশের কার্যক্রম পরিচালনায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

র‌্যাডিসনে আইডিবির আঞ্চলিক অফিস উদ্বোধনের পর আইডিবি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইডিবি প্রেসিডেন্ট বান্দার বিন মোহাম্মদ বিন হামজা আসাদ আল হাজ্জার বলেন, ‘এত দিন ঢাকায় ফিল্ড অফিস দিয়ে আইডিবির যে কার্যক্রম পরিচালিত হতো, তাতে কোনো ক্ষমতা ছিল না। আঞ্চলিক অফিস না থাকার কারণে কাজে গতি আসে না। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সময় অনেক বেশি লাগে। ঢাকায় আঞ্চলিক অফিস খোলা হলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ও দ্রুত হবে। কারণ আঞ্চলিক অফিসের ক্ষমতা থাকবে। দুই পক্ষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সদৃঢ় করবে আঞ্চলিক অফিস। এতে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরো বাড়বে।’

আইডিবির এত সদস্য দেশ থাকতে বাংলাদেশে আঞ্চলিক অফিস করতে কেন বেছে নেওয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে বান্দার হাজ্জার বলেন, ‘ঋণ নিয়ে আবার সে ঋণ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য অসাধারণ। বাংলাদেশ ঋণ নিয়ে কখনো ব্যর্থ হয়নি। আর্থিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো ভালো। ভৌগোলিক দিক থেকেও বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক বছর ধরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনা করে আমরা বাংলাদেশে আঞ্চলিক অফিস চালু করার সিদ্ধান্ত নিই।’

 সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আইডিবি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হায়াত সিন্ধি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযমসহ অন্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে আইডিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানী তৈরিতে ৫০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করেছে আইডিবি। তহবিলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রান্সফরমারস ফান্ড’। আইডিবির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নতুন ধারণার উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা তৈরিতে এই টাকা ব্যয় হবে। আইডিবির সদস্য রাষ্ট্রের যে কেউ এই তহবিল থেকে টাকা পেতে আবেদন করতে পারবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে আইডিবি নতুন এই তহবিল চালু করেছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে। এই তহবিলের মাধ্যমে নতুন অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে এসব সৃজনশীল উদ্ভাবনী ধারণা ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আইডিবির আঞ্চলিক অফিসে কারা নিয়োগ পাবে এমন প্রশ্নের জবাবে বান্দার হাজ্জার আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে বেশি। স্থানীয়রা বেশি সুযোগ পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হতে চলেছি। ফলে আমাদের সহজ শর্তের সুদ পাওয়ার দিন ফুরিয়ে আসছে। তবে এটাও ঠিক যে আমাদের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা বেড়েছে। আমরা ঋণ নিয়ে সে ঋণ পরিশোধে কখনো ব্যর্থ হইনি। সারা বিশ্বেই এ বিষয়ে আমাদের সুনাম আছে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখন বেশি সুদে ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক থেকে সহজ শর্তের পাশাপাশি আমরা এখন কঠিন শর্তেরও ঋণ নিয়ে থাকি। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এরই ধারাবাহিকতায় আইডিবি বাংলাদেশে আঞ্চলিক অফিস খুলেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে হাজ্জার বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে আইডিবি বাংলাদেশে প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এসব বিনিয়োগ এসেছে পানি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে। এখন আঞ্চলিক অফিস চালু হওয়ায় বাংলাদেশে সহযোগিতা আরো বাড়বে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোকে মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। বান্দার হাজ্জার বলেন, দক্ষ জনবল তৈরি হলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে।

অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার তাগিদ দিয়ে বান্দার হাজ্জার বলেন, আইডিবির সদস্য দেশগুলোর অবকাঠামো খাতে আগামীতে এক হাজার বিলিয়ন ডলার অর্থ প্রয়োজন হবে। কিন্তু আইডিবিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার তহবিলে বিশাল এই চাহিদা মেটানোর মতো তহবিল নেই। অবকাঠামো খাতে ব্যাপক অর্থায়ন ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। আর এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে বেসরকারি খাত।

আইডিবি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ড. হায়াত সিন্ধি বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে ১৭টি অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। এত দিন আইডিবি শুধু অবকাঠামো, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করলেও এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হবে। নবগঠিত তহবিল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। বিজ্ঞানকে অর্থনীতি এবং সামাজিক টেকসই উন্নয়নের প্রধান চালক হিসেবে মনে করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন হায়াত সিন্ধি।

 



মন্তব্য