kalerkantho


তৃণমূলে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব ছয় গুণেরও বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



তৃণমূলে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব ছয় গুণেরও বেশি

শহরের চেয়ে তৃণমূলের মানুষই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সুবিধা বেশি নিচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, শহরের তুলনায় গ্রামে ছয় গুণেরও বেশি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায়। বাংলাদেশ ব্যাংকও এমন লক্ষ্য নিয়েই এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দিয়েছিল। প্রথমে কেবল গ্রাম বা পল্লী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর চিন্তাভাবনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে শহরাঞ্চলেও এর অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে নীতিমালা অনুযায়ী, শহরে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট খুললে গ্রামে আউটলেট খুলতে হয় তিনটি (১ঃ৩)। দেখা যাচ্ছে, এখনো পর্যন্ত গ্রামেই এজেন্ট ব্যাংকিং বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ১৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০টি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামে ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৭টি এবং শহরে দুই লাখ ৩৭ হাজার ২৩টি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে সাড়ে ছয় গুণ বেশি এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব রয়েছে। ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বলেন, ‘তৃণমূল এলাকার মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতেই এ কার্যক্রম শুরু হয়। এ জন্য প্রথমে কয়েকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়াকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প করে সরকার। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের মধ্যে আর্থিক জ্ঞান (ফিন্যানশিয়াল লিটারেসি) বাড়ছে।’ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তবে সামগ্রিক ব্যাংক খাতের মতো এখানেও নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের চেয়ে কম। প্রাপ্ত তথ্য মতে, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৪ জন পুরুষ ব্যাংক হিসাব খুলেছেন এবং নারীরা খুলেছেন ছয় লাখ ৯ হাজার ৮২৪টি হিসাব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক হিসাব ছিল আট লাখ ৭২ হাজার ৮৬৫টি। সে হিসাবে গত এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে হিসাব বেড়েছে ৯ লাখ চার হাজার ৫৩৫টি। এর মধ্যে কেবল গত তিন মাসেই এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব বেড়েছে তিন লাখ আট হাজার ৬০৩টি। মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত হিসাব ছিল ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৭টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, তিন হাজার ৫৮৮টি এজেন্টের আওতায় পাঁচ হাজার ৩৫১টি আউটলেটের মাধ্যমে সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাংক এশিয়া, মধুমতি ব্যাংক ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এজেন্ট আউটলেটের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া। ব্যাংকটির দুই হাজার ২৪২টি আউটলেটের মধ্যে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে আউটলেটের সংখ্যা এক হাজার ৮২৮।

২০১৮ সালের ৩০ জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা হিসাবগুলোতে মোট জমার পরিমাণ (আমানত) দাঁড়ায় দুই হাজার ১২ কোটি টাকা। তিন মাস আগে অর্থাৎ মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে মোট জমার পরিমাণ ছিল এক হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩.১৫ শতাংশ।

জানা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক তার চলতি হিসাবে দিনে সর্বোচ্চ চারবার মোট ২৪ লাখ টাকা নগদ জমা এবং সর্বোচ্চ দুটি লেনদেনে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারেন। সঞ্চয়ী হিসাবে সর্বোচ্চ দুবার আট লাখ টাকা নগদ জমা এবং সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা করে দুটি লেনদেনে ছয় লাখ টাকা তুলতে পারেন। তবে রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে উত্তোলনসীমা প্রযোজ্য হয় না।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা হিসাবগুলোর মধ্যে ৫৩ শতাংশের বেশি রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্যাংক এশিয়া ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংক এশিয়ার ২৮.৯৪ শতাংশ এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৫.৬৬ শতাংশ হিসাব রয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণও হচ্ছে। বেসরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ১৩৭ কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে শহর অঞ্চলে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত ২০টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য