kalerkantho


এবার লিজিং কম্পানিরও সুদহার কমানোর উদ্যোগ

শেখ শাফায়াত হোসেন   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



এবার লিজিং কম্পানিরও সুদহার কমানোর উদ্যোগ

ব্যাংকের মতো লিজিং কম্পানিগুলোর ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। গত সপ্তাহে লিজিং কম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) নেতারা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে এলে গভর্নর ফজলে কবির তাদের এ অনুরোধ জানান।

বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খলিলুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরাও চাই সুদের হার কমে আসুক। তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সুবিধা হয়। আমানতের সুদহার কমাতে পারলে আমাদেরও সুবিধা। তবে যারা আমানতের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল এমন পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।’

জানা গেছে, বর্তমানে এনবিএফআইগুলোকে ৯ থেকে ১০ শতাংশ সুদে তহবিল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ঋণ দিতে হচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ সুদে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাঁদের পক্ষে ব্যাংকের মতো ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা সম্ভব নয়। তবে এর কাছাকাছি আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে অনুরোধ জানানো হয়েছে তা তাঁরা অবশ্যই আমলে নেবেন। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলতে পারছেন না বিএলএফসিএর নেতারা। আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এই সংগঠনটির নেতাদের একটি বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

জানতে চাইলে বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আলোচ্য সূচি এখনো হাতে আসেনি। তা ছাড়া বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে এখনো বেশ কয়েক দিন বাকি আছে। বৈঠকের আগে আগে আলোচনার বিষয়গুলো ঠিক করা হবে।’

গত বুধবার ব্যাংকের আমানত ও ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বেসরকারি ব্যাংক পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতারা। গুলশানে সংগঠনটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে বিএবির প্রেসিডেন্ট ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো কোনো ঋণে ৯ শতাংশের বেশি সুদ নেবে না এবং আমানতের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশের বেশি সুদ দেবে না। তবে তিন মাস মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে এই সুদহার প্রযোজ্য হবে। অন্যান্য আমানতের সুদহার নির্ধারণের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি বিএবি প্রেসিডেন্ট।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান নজরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘১৩-১৪ শতাংশ যদি সুদের হার হয় তবে কত শতাংশ মুনাফা করলে একজন ব্যবসায়ী ঋণ শোধ করতে পারবে। এখন দেশে এমন কোনো ব্যবসা নেই যেখানে ১৪-১৫ শতাংশ মুনাফা হবে।’ ব্যাংকগুলোকে উদ্দেশ্য করে বিএবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বর্তমানে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কেউ পরিশোধ করতে পারবে না। আপনারা মামলা-মোকদ্দমা করে টাকা আদায় করতে পারবেন না। পরে আপনাদের ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাবে। ওই ঋণগুলো আবার অবলোপন করতে হবে। অবলোপন না করলে ব্যাংকই বিপদে পড়ে যাবে।’

ওই ঘোষণার পরপরই গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান বিএবির নেতারা। পরের দিন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও দেখা করেন তাঁরা। এ সময় তাঁদের ঘোষণা অনুযায়ী সুদহার বাস্তবায়নের তাগিদ দেন গভর্নর ফজলে কবির।

ওই বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও ব্যাংকিং সংস্কারবিষয়ক উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘বিএবির এই ঘোষণা যেন শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে বলেছেন গভর্নর। এ ছাড়া অন্য এক বৈঠকে লিজিং কম্পানিগুলোকেও ব্যাংকের মতো ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনতে পারবে কি না সেটা দেখতে বলা হয়েছে। তবে লিজিং কম্পানিগুলোর সুদের হার ব্যাংকের থেকে একটু বেশিই থাকে। তার পরও সেটা কিভাবে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায় সেই চেষ্টা করতে বলা হয়েছে এ খাতের সংগঠনের নেতাদের।’

গত বুধবার বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মতো সরকারি ব্যাংকগুলোও তাদের সুদহার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই দিন সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে ব্যাংক পরিচালকদের সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে আগামী ২ জুলাই বৈঠকে বসবে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) নেতারা। ১ জুলাই ব্যাংক ক্লোজিংয়ের দিন সব ব্যাংক লেনদেন বন্ধ রেখে অর্ধ বার্ষিক মুনাফা হিসাব-নিকাশ করবে।



মন্তব্য