kalerkantho


বিজিএমইএর সংবাদ সম্মেলন

শতভাগ কারখানায় মজুরি ও ঈদ বোনাস পরিশোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



শতভাগ কারখানায় মজুরি ও ঈদ বোনাস পরিশোধ

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান

ঈদের আগে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি এবং ঈদ বোনাস শতভাগ পরিশোধ করার দাবি করেছে এ খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর সম্মেলন কক্ষে ঈদের আগে পোশাক খাতের শ্রম পরিস্থিতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন সংগঠনের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।

এদিকে শ্রমিক নেতাদের দাবি গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিজিএমইএর সাবেক এক সভাপতির কারখানাসহ বেশ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়নি। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে সময় ক্ষেপণ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, ঈদের আগের বিজিএমইএ ১২০০ কারখানার মজুরি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা করে একটি তালিকা করা হয়। তবে সর্বশেষ ওই তালিকা ছোট হয়ে ৩৫ কারখানাকে চূড়ান্ত নজরদারিতে রাখা হয়। সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত কোনো কারখানায় কোনো রকম অসন্তোষ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এ সময় ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলেও তারল্য সংকটের কারণে কোনো কোনো ব্যাংক কারখানার মালিকদের চেক ফেরত দেন বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কোনো কারখানায় স্বার্থান্বেষী মহল বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে। তবে বিজিএমইএ এবং কারখানার মালিকরা এ সময় বেশ সতর্ক ছিল।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কাস ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আকতার কালের কণ্ঠকে বলেন, শ্রমিকরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ফলে এবার তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি এবং ঈদ বোনাস নিয়ে তেমন কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি। সরকার এবং বিজিএমইএ নির্ধারিত কর্মসূচি কারখানার মালিকরা মানেনি। তারা তাদের খেয়াল-খুশি মতো বেতন-বোনাস দিয়েছে। এ ছাড়া এক বছরের কম সময় ধরে যেসব শ্রমিক কাজ করেছে তারা বোনাস পায়নি।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, এখনো বেশ কিছু কারখানার মালিক শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বোনাস পরিশোধ করেনি। রাজধানীর রামপুরা, উত্তর বাড্ডা এবং গোড়ানের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা গতকাল বিকেল পর্যন্ত বেতন এবং মজুরির জন্য কারখানার সামনে অবস্থান করছিল।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, যেসব কারখানার বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই সব কারখানায় তাদের জানামতে কোনো সমস্যা নেই। তবে ব্যাংক লেনদেনের জটিলতার কারণে বেতন পরিশোধে একটু দেরি হলেও শ্রমিকরা তাদের নায্য পাওনা নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাবেন।

বিজিএমইএর সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির ও পরিচালকরা।

 



মন্তব্য