kalerkantho

মসলার বাজার চড়া

শওকত আলী   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



মসলার বাজার চড়া

ঈদ ঘিরে মসলায়ও অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদের আগে মানুষ শুধু পোশাকই শুধু কেনে না, ভালো খাবারেরও আয়োজন করে। আর ভালো খাবার তৈরির জন্য ভালো মসলার প্রয়োজন পড়ে। এ কারণে ঈদের সময় মসলার বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। বিভিন্ন ইস্যুতে ভিন্ন ভিন্ন পণ্যের বাজার যেভাবে চড়ে যায় ঠিক সেভাবেই ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে চড়ছে মসলার বাজার।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি অন্যান্য সময়ের চেয়ে এবার মসলার দাম কম। কারণ বেশির ভাগ মসলারই সিজন শুরু হয়েছে। নতুন পণ্যের কারণে সরবরাহ বেশি। তাই দাম বেশ খানিকটা কম। তবে এ কম দামের উত্তাপ রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে চোখে পড়ে না। বরং ঈদের চাপের কথা বলে তারা চড়া দামেই বিক্রি করছে মসলাজাতীয় পণ্য।

রোজার শুরুর দিকে বিভিন্ন বাজার মনিটরিং সংস্থার চাপে খুচরা দোকানগুলোতে পণ্যের দামের তালিকা টাঙানো থাকলেও এখন আবার উল্টে গেছে। বেশির ভাগ বিক্রেতাই তাদের তালিকাগুলো গুম করে রেখেছে। কেউ টাঙিয়ে থাকলেও সেটা এমন জায়গায় রাখা হয়েছে যেটা সাধারণ ক্রেতাদের চোখে পড়ে না। তারা মসলার দামও নিচ্ছে অনেক বেশি।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের পেছনে রয়েছে চাঁদপুর স্টোর ও আল-আমীন ট্রেডাস। দুটি দোকানই মূল্য তালিকা না টাঙানোয় সিটি করপোরেশনের জরিমানার ঘানি টানতে হয়েছে। কিন্তু গত মঙ্গলবার দোকান দুটিতে গিয়ে তালিকা পাওয়া যায়নি। তারা ইচ্ছামতো দামে বিভিন্ন মসলা বিক্রি করছে।

পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি সাধারণ মানের সাদা এলাচ ১৪০০-১৪৫০ টাকায় বিক্রি করলেও তারা বিক্রি করছে ১৬৫০-১৭০০ টাকায়। জানতে চাইলে আল-আমীন ট্রেডার্সের বিক্রেতা (নাম বলতে চাননি) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের সিজন। একটু বাড়তি দাম থাকেই। চাহিদা বেশি থাকে বলেই দাম একটু বেশি।’

একইভাবে রামপুরার এক মুদি দোকান রুবেল ট্রেডার্স। এই দোকানের বিক্রেতা রুবেল একই মানের সাদা এলাচ বিক্রি করছেন ১৯০০-২০০০ টাকা কেজি দরে। এত দাম কেন জানতে চাইলে এ বিক্রেতা বলেন, ‘কারওয়ান বাজার থেকে মসলা এনেছি। অনেক চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। ১৫০০-১৬০০ টাকার এলাচ কিনতে হচ্ছে ১৭০০ টাকায়।’

পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানান, এবার মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে সব পণ্যের দাম যেমন কিছুটা কম, তেমনি সরবরাহও বাড়তি। খুচরা ব্যবসায়ীরা যদি সংকটের কথা বলে তবে এটার দায় তাদের।

বাংলাদেশ হোলসেল স্পাইসেস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজারের রুবেল ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মসলার মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। কারণ এখন রবিশস্যের সিজন। সব কিছুরই সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি রয়েছে। সুতরাং দাম বাড়ার কারণ নেই। উল্টো অনেক পণ্যের দাম কম।’ তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি জিরা যেখানে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হতো, তার দাম কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৫০ টাকায়।’

রাজধানীর খুচরা দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে বর্তমানে ভারতীয় জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। ভালো মানের সাদা এলাচ ১৯০০-২০০০ টাকা কেজি।

পাইকারি বাজারে দারুচিনি ২১০-২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৮০ টাকা পর্যন্ত।

প্রতি কেজি লবঙ্গ ৯২০-৯৩০ টাকায় পাইকারিতে বিক্রি হলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ১১৫০-১২০০ টাকা পর্যন্ত। আর ভালো মানের ইন্দোনেশিয়ার লবঙ্গ যাদের কাছে আছে তারা ১৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া পাইকারি বাজারে জায়ফল ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৬৫০ টাকায়। বাংলাদেশে ইরান ও চায়না থেকে আমদানি করা কিশমিশ বিক্রি হয়ে থাকে। এ পণ্যটি প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হয়। যে কারণে এটার পাইকারি ও খুচরা দামে পার্থক্য কম থাকে বলে জানা গেছে। পাইকারি বাজারে কিশমিশ ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে খুচরা বাজারে ক্রেতাকে প্রতি কেজি কিশমিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকা। দেশের বাজারে কাজু বাদাম আসে ভিয়েতনাম ও ভারত থেকে। আলাদা আলাদা দেশ থেকে এলেও বিক্রি হয় একই দামে। বর্তমানে এই পণ্যটির পাইকারি মূল্য কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত কমে ৯৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা প্রতি কেজি কাজু বাদাম ১৬০০-১৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আলুবোখারা ৫৫০-৬০০ ও শাহি জিরা ৭৫০-৮৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

 


মন্তব্য