kalerkantho


ঈদকে ঘিরে ১৬ লাখ টাকার হাঁস বেচাকেনা রংপুরে

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ঈদকে ঘিরে ১৬ লাখ টাকার হাঁস বেচাকেনা রংপুরে

লালবাগ হাটে দরদাম করে হাঁস কিনছেন ক্রেতারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

উঠতি বোরো ধানের আশানুরূপ দাম নেই। রংপুর অঞ্চলের সাধারণ কৃষকদের তাই ঈদ আনন্দে ভাটা পড়েছে। ঈদকে ঘিরে আনুষঙ্গিক কেনাকাটা প্রায় শেষ হলেও চিন্তা এখন ঈদের দিনকে নিয়ে। আর যাই হোক ওই দিন ছেলে-মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনকে খাওয়াতে ঈদের প্রধান উপকরণ সেমাইয়ের পাশাপাশি ভালো তরকারি প্রয়োজন। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য নেই সাধারণ কৃষকের। তাই তারা অপেক্ষাকৃত কম দামে গ্রামীণ হাট-বাজারে হাঁস কেনার দিকে ঝুঁকেছে।

ঈদে বিশেষ করে ছেলে-মেয়েদের নতুন জামাকাপড়সহ ঈদের দিনে ভালো খাবারের আয়োজন চিরায়ত ঐতিহ্য। কোরবানির ঈদের মূল আকর্ষণ কোরবানির পশু হলেও ঈদুল ফিতরে নতুন জামাকাপড়ের পাশাপাশি সেমাই, পায়েস, ফিরনিসহ আয়োজন করা হয় ভালো খাবার-দাবারের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এরই মধ্যে বিশেষ করে কৃষক পরিবারে অন্যান্য কেনাকাটা হলেও তাঁরা চিন্তায় আছেন ঈদের দিনের খাবারের জন্য মাংস কেনা নিয়ে।

সরেজমিনে গত বুধবার রংপুরের লালবাগ হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে ঘিরে বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে হাঁস কেনা-বেচার হাট। ক্রেতারাও হুমড়ি খেয়ে পড়ছে হাঁস কেনায়। স্থানীয় জাতের প্রতিটি হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। আর রাজহাঁস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়।

হাঁস কিনতে আসা নগরীর বাবুপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুল হালিম, নওশা মিয়া, রেলস্টেশন এলাকার সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের দিন তো ভালো খাবার দরকার। তয় ধানেরও দাম নাই। তা ছাড়া এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৪৫০ টাকা। ঈয়ার চ্যায়া হাঁস খাওয়া ভালো। ৪৫০ টাকায় একটা হাঁস কিনলে এক কেজির বেশি মাংস হবে।’ একই ধরনের কথা বলেন, হাটে আসা লোকমান হোসেন, কাছু মিয়াসহ হাঁসের ক্রেতারা। তাঁরা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সস্তায় বলতে হাঁসের মাংসই। তাই হাঁস কিনতে হাটোতে আচ্ছি। হাটে আসা বেশির ভাগ মানুষের হাতেই দেখা যায় হাঁস ঝোলানো।

হাটে হাঁস বিক্রেতা আব্দুল গফুর, রহমান আলী জানান, ঈদকে ঘিরে তাঁরা হাঁস পালন করেছেন। তবে এবারে দাম কম। আশাবাদ ব্যক্ত করে তাঁরা বলেন, ‘প্রতিটি হাঁস ৪৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এবারে হাঁস বিক্রি হচ্ছে বেশি। সেইদিক থেকে লোকসান হচ্ছে না।’

হাট ইজারাদার স্বপন মিয়া জানান, লালবাগ হাটের দিন এমনিতে দেড় থেকে দুই হাজার হাঁস বিক্রি হয়। ঈদকে ঘিরে বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চার হাজার হাঁস বিক্রি হয়েছে বলেও জানান তিনি। যার মূল্য দাঁড়ায় ১৬ লাখ টাকা। ইজারাদার বলেন, গরু, খাসি ও মুরগির চেয়ে এ বছর হাঁস অনেকটা সস্তা হওয়ায় সাধারণ মানুষ ঈদে হাঁসের দিকে ঝুঁকেছে।


মন্তব্য