kalerkantho


ঈদ বাজারে নিরুত্তাপ কলমানি

ব্যাংকে শেষ লেনদেনের চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ঈদ বাজারে নিরুত্তাপ কলমানি

দীর্ঘদিন তলানিতে থাকার পর ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটের কারণে মাঝে সামান্য বেড়েছিল আন্ত ব্যাংক কলমানি মার্কেটের সুদহার। ঈদ উপলক্ষে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার ব্যাপক লেনদেন হলেও কলমানিতে চাহিদা বাড়েনি বললেই চলে। ফলে সর্বোচ্চ সুদহার অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে সর্বনিম্ন সুদহার গত তিন দিনে সামান্য বেড়েছে। এদিকে ছুটির আগের শেষ কর্মদিবসে গতকাল টাকা তোলা ও জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে গ্রাহকের তুলনামূলক বেশি ভিড় দেখা গেছে। এটিএম বুথেও টাকা তুলতে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।

সাধারণত, সংকটের সময় এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে সাময়িকভাবে টাকা ধার নেয়। এক রাতের (ওভার নাইট) জন্য এই ধার দেওয়া হয়। এই ধার দেওয়া-নেওয়া কার্যক্রম সম্পন্ন হয় আন্ত ব্যাংক কলমানি মার্কেটে। নগদ টাকা ধারের চাহিদার ওপর এই মার্কেটের সুদহার ওঠানামা করে।

প্রতিবছরই ঈদের আগে গ্রাহকদের নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। ফলে এ সময় অনেক ব্যাংকে নগদ টাকা সংকট দেখা দেয়। এই সংকট মোকাবেলায় আন্ত ব্যাংক কলমানি বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে ব্যাংকগুলো। নগদ টাকার সংকট বেশি হলে আন্ত ব্যাংক কলমানিতে বেশি সুদে অর্থ ধার করতে হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরেই এই চিত্র আর দেখা যাচ্ছে না। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদের আগে এই বাজারে লেনদেন বাড়লেও সুদহারও কিছুটা বেড়েছে। ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত তারল্য থাকার ফলে কলমানি বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই আন্ত ব্যাংক কলমানি সুদের হার চার শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। কলমানি মার্কেটে সুদের হার সবচেয়ে বেশি হয়েছিল ২০১১ সালে। ওই বছরে সুদের হার ১০০ শতাংশের ওপরে উঠে যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ১১ জুন এই বাজারে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে সাত হাজার ২৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ ছাড়া একই সুদহারে ১০ জুন ছয় হাজার ৪৯৮ কোটি, ৭ জুন ছয় হাজার ৮২৬ কোটি, ৬ জুন ছয় হাজার ৬৬১ কোটি, ৫ জুন ছয় হাজার ৬৬৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়। তবে সর্বোচ্চ সুদহার একই থাকলেও সর্বনিম্ন সুদ বেড়েছে। ৩ জুন সর্বনিম্ন সুদহার ছিল শতকরা ৫০ পয়সা গত ৭ জুন তা বেড়ে এক টাকা হয়। এবং ১১ জুন তা আরো বেড়ে এক টাকা ৭৫ পয়সা হয়েছে। এ ছাড়া গড় সুদহার তিন টাকা ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে তিন টাকা ৫৯ পয়সা।

গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ব্যাংকের শেষ কার্যদিবস। ফলে এদিন টাকা তোলা ও জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে গ্রাহকদের ভিড় অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি ছিল। এটিএম বুথেও লাইন ধরে টাকা তুলতে দেখা গেছে। শুধু নগদ টাকা উত্তোলন ও জমা দেওয়াই নয়, শেষ কার্যদিবস হওয়ায় নতুন টাকা সংগ্রহের জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ভিড় করেন গ্রাহকরা। এতে ব্যস্ত সময় পার করেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা পল্টন, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ঈদে বাড়তি কেনাকাটার জন্য নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে গ্রাহকদের সুবিধার্থে সব ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এটিএম ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) নেটওয়ার্ক সার্বক্ষণিক সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় এবার কলমানির সুদ স্বাভাবিক রয়েছে।

জানা গেছে, এবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ ঈদে তিন দিন অফিস আদালত ও ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে রোজা ৩০টি হলে এই ছুটি আরো এক দিন বাড়বে। কয়েক দিন বন্ধ থাকা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য ব্যাংক ও এটিএম বুথে গ্রাহকদের বেশি ভিড় দেখা গেছে। যদিও পোশাক শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধ ও রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থে গত বুধবার ব্যাংক বন্ধের দিনও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা ছিল।

এ বিষয়ে মতিঝিল সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের একজন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) বলেন, বৃহস্পতিবার শেষ কার্যদিবস হওয়ায় সকাল থেকে গ্রাহকদের ভিড় দেখা গেছে। তিনি আরো বলেন, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় এ দিন বেশি লেনদেন হয়েছে। তবে নগদ টাকার কোনো সমস্যা হয়নি।


মন্তব্য