kalerkantho


শেষ বেলায় চাই আতর-টুপি

শওকত আলী   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



শেষ বেলায় চাই আতর-টুপি

ঈদে বাড়তি চাহিদা থাকে টুপি ও আতরের

পুরুষদের মধ্যে যারা ঈদের পোশাক কেনার পর্ব শেষ করেছে, তারা এবার ছুটছে ছোটখাটো জিনিপত্র কিনতে। আর কেনাকাটার এই পর্বে তারা ভিড় জমাচ্ছে টুপি, জায়নামাজ, আতরের মতো জিনিসগুলো কিনতে; যা মূলত ঈদের নামাজের প্রস্তুতি।

পায়জামা-পঞ্জাবির সঙ্গে আতর-টুপি, তসবি, সুরমা ও জায়নামাজের জন্য জমজমাট বড় মার্কেটসহ পাড়া-মহল্লার মসজিদ মার্কেটগুলো। এসব দোকনে বিক্রি হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ধর্মীয় সামগ্রী। ঈদের মাত্র দুই দিন বাকি থাকায় এখন ক্রেতাদের ভিড় জমেছে এসব দোকানে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটের আতর-টুপির দোকান ঘুরে দেখা গেছে বাজারে তুর্কি, ভারত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে আমদানি বিভিন্ন পণ্য। পাশাপাশি এখন দেশের উত্পাদিত সামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা, রুচি ও পছন্দের বিষয় গুরুত্ব দিয়ে রাখা হচ্ছে আতর, সুরমা, তসবি, জায়নামাজ, টুপির মতো জিনিসগুলো।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হারামাইন, আল-নোইম, সুইস, আহলান, কোবরা, ফারহান, গুলে-লালা, কস্তুরিসহ বিভিন্ন ব্যান্ডের আতর বিক্রি হচ্ছে। আতরের মধ্যে আছে রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন সুগন্ধি। এসব সুগন্ধি মিলছে ১০০ থেকে হাজার টাকার মধ্যে। 

টুপির মধ্যে রয়েছে ১০, ২০ ও ৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক-দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের। তসবি রয়েছে ৫০ থেকে ৬০০ টাকার। এ ছাড়া দেখা যাচ্ছে হরেক রকমের সুরমাদানি। সুরমাসহ একসঙ্গে ২০০ থেকে হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের এই সামগ্রী।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটে দেখা গেছে ধর্মীয় সামগ্রীর এলাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি। অনেকে বাড়ি যাওয়ার আগমুহূর্তে মা-বাবা, দাদা-দাদি ও অন্য আত্মীয়দের জন্য এসব সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ মার্কেটের দোকানিরা।

এ মার্কেটের আতর-টুপির দোকানি মো. জিহাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একসঙ্গে সব ধরনের ইসলামিক সামগ্রী পাওয়া যায়, এ জন্য ক্রেতারা সরাসরি এখানে চলে আসে। সে জন্য সারা বছরই এ মার্কেটে ক্রেতার উপস্থিতি ভালো। এখন ঈদ উপলক্ষে আরো একটু বেশি বিক্রি বেড়েছে।’

এই মার্কেটে বাড়ি যাওয়ার আগমুহূর্তে আতর কিনছিলেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বাড়ি যাওয়ার আগে এখান থেকেই আতর কিনি। ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় সুগন্ধি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’ 

বিক্রেতারা জানান, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুর্কি, ভারত ও মালয়েশিয়ার টুপিই বেশি চলত বাংলাদেশে। তবে গত দুই-তিন বছরে পাকিস্তানি টুপির বিক্রি একেবারে কমে গেছে। কারণ দেশি কিছু প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ডিজাইনের টুপি তৈরি করছে। যোবায়ের ক্যাপ হাউস, মজুমদার ক্যাপ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। 

একই অবস্থা দেখা গেছে রাজধানীর মৌচাক, নিউ মার্কেট এবং পুরান ঢাকার মসজিদ মার্কেট ও এর আশপাশের দোকানগুলোতে।

রাজধানীর চকবাজার মসজিদের পাশের এক দোকানে আতর কিনতে আসা নাজমুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা মাস রোজা থাকার পর ঈদের নামাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য প্রস্তুতি নিতেই নিজের এবং বাবার জন্য সুগন্ধি, জায়নামাজ ও টুপি কিনছি।’



মন্তব্য