kalerkantho


বাংলাদেশ নিয়ে আইএমএফের মূল্যায়ন

প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

নিম্ন আয়ের দেশ হতে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। এক দশক ধরে গড় প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে। ভোক্তা ব্যয় ও বিপুল বিনিয়োগকে ঘিরে ২০১৮ সালেও প্রায় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে আশা করা যায়। প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বাংলাদেশকে অবকাঠামো বাধাগুলো কাটিয়ে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। এমন দাবি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক অর্থনৈতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশে আইএমএফের মিশন প্রধান দায়সাকু কিহারা বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যহারে। দরিদ্রতা কমেছে এবং সামাজিক বিভিন্ন সূচক যেমন শিক্ষায় লিঙ্গ অসমতা, মাতৃমৃত্যুর হার ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের দ্রুত সাফল্য ও অন্যান্য খাতে অগ্রগতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ থেকে ম্যানুফ্যাকচারভিত্তিক অর্থনীতিতে উন্নীত হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যায়ন ঘটেছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ফলে অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। এর অর্থনৈতিক চাপ খুব একটা পড়েনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের কারণে। কিন্তু ভবিষ্যতে খরচের চাপ বাড়বে। এ ছাড়া বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

আইএমএফ তাদের প্রতিবেদনে অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে, যা বেসরকারি খাতকেও কর্মকাণ্ড বাড়াতে সহায়তা করবে। এতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার কিভাবে রাজস্ব আয় বাড়াবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে কর রাজস্ব জিডিপির মাত্র ৯ শতাংশ। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক ব্যয়ে সরকারের আরো রাজস্ব প্রয়োজন। সাধারণত নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে কর রাজস্ব হচ্ছে জিডিপির প্রায় ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশের রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে বিলম্বিত ভ্যাট কার্যকর করা অগ্রাধিকারে রাখতে হবে। কর নীতিতে সংস্কার আনতে হবে, কর প্রশাসনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং কর প্রদানে সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়াতে হবে, বিশেষ করে অনলাইন নিবন্ধন এবং কর রিটার্নের ক্ষেত্রে।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কম্পানিগুলোর অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রধান উৎস ব্যাংক খাত। এ খাত থেকে কী পরিমাণ ঋণ দেওয়া হচ্ছে তা অবশ্যই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ব্যাংক খাতে শক্তিশালী ব্যালান্সশিট এবং দক্ষ কার্যক্রম প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে উন্নয়নের আরো অনেক সুযোগ রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক খাতে মন্দ ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। বিশেষ করে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। তাই ব্যাংক খাতকে উন্নত করতে হলে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় উন্নয়ন ঘটাতে হবে। ঋণ উত্তোলন ত্বরান্বিত করতে হবে। সেই সঙ্গে আরো কার্যকর আইনি কাঠামোতে ঋণদাতাদের অধিকার রক্ষা করতে হবে।

ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে দরিদ্র মানুষদের অর্থনীতির মূল স্রোতে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণে বাংলাদেশ একটি পথপ্রদর্শক দেশ। এ দেশের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং এজেন্টভিত্তিক ব্যাংকিং। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মধ্যমমানের উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান আরো উৎসাহিত করতে হবে, সেই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে তাদের অন্তত অর্ধেক শাখা গ্রামীণ এলাকায় খুলতে হবে। এতে নারী উদ্যোক্তা বাড়বে, সেই সঙ্গে আরো বিপুলসংখ্যক মানুষ আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে আসবে।


মন্তব্য