kalerkantho


নাটোরে আমের ব্যবসা হবে ২৬ কোটি টাকার

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



নাটোরে আমের ব্যবসা হবে ২৬ কোটি টাকার

উত্পাদন হবে ৬০ হাজার মেট্রিক টন

চলছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ, রসালো ফল লিচু এর মধ্যে বাজার থেকে বিদায় নিতে শুরু করলেও নাটোরে বাজারে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন জাতের আম। গত ২৫ মে থেকে পাকা আম সংগ্রহ শুরু করেছে নাটোরের আমবাগান ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমের বাম্পার ফলন এবং দাম ভালো পাওয়ায় খুশি আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি সরেজমিনে লালপুর উপজেলার, লালপুর, গোপালপুর, ওয়ালিয়া, ধুপইল, দুয়ারিয়া, কদমচিলান এবং বাগাতিপাড়া উপজেলার, মালঞ্চি, তামালতলা, জামনগর এবং পাকা ইউনিয়নের বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, বাগানগুলোতে গাছে গাছে সবুজ আম থোকায় থোকায় ঝুলছে। আমের ভারে গাছগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে। বাগানে শেষ সময়ের পরিচর্যার কাজ শেষ, এখন চলছে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের পালা। কিছু কিছু বাগানে এরই মধ্যে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আম ক্রয় করতে দামাদামি করছে। আবার অনেক বাগান থেকে পাকা আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

এসব বাগানগুলোতে অন্যান্য জাতের মধ্যে গোপালভোগ, কালুয়া, খিরসাপাতি, আম্রপলি, হাঁড়িভাঙ্গা, বারি আম-৪, ল্যাংড়া, ফজলি, লক্ষ্মণভোগ, রানী পছন্দ, মল্লিকা, আশ্বিনা আমগুলো বেশি চাষ হয়েছে। বাণিজ্যিক এসব জাতের আমের ফলন ভালো হওয়ায় দাম নিয়েও আশাবাদী চাষিরা। বর্তমানে গোপালভোগ এবং আঁটির আম ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লালপুর উপজেলার গোপালপুর আমবাগান মালিক সোহেল রানা বলেন, ‘আমার আড়াই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। এ বছর আমের ফলন আশানুরূপ ভালো হয়েছে। এ বছর আমের চাহিদা ও দাম বর্তমানে ভালো থাকায় আম বিক্রয় করে আমরা লাভের মুখ দেখছি।’

আম চাষি শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ‘আমি ৯ বিঘা জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আমের চাষ করেছি। এ বছর আমার বাগানে ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমানে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদাও বাজারদর ভালো আছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এ বছর আম বিক্রি করে ভালো মুনাফা আয় হবে।’

লালপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার এক হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে আট হাজার ৬০০ মেট্রিক টন আম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারদর ধরা হয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ বছর উপজেলায় আমের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই উপজেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে। এ ছাড়া এ বছর বাজারে আমের চাহিদা ও মূল্য ভালো রয়েছে এতে উপজেলার আম চাষিরা লাভবান হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, উপজেলায় গাছ থেকে আম পাড়ার নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমে রাসায়নিক পদার্থ মেশানো থেকে বিরত রাখতে চাষি ও ব্যবসায়ীদের নিবিড়ভাবে পর্যাবেক্ষণ করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।

নাটোর হর্টিকালচার সেন্টার সূত্র জানায়, জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে লালপুর, বাগাতিপাড়া এবং বড়াইগ্রাম এই তিনটি উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আম চাষ হয়ে থাকে। বাকি উপজেলাগুলোতেও কম বেশি বাগান রয়েছে। এই বছর আমের অন ইয়ার হওয়ার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় আমের উত্পাদন বেশি হবে। এই বছর প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে, যা থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন আম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তা ছাড়া পরিপক্ব আম যাতে বাজারে আসতে পারে সে জন্য বিভিন্ন জাতের পাকা আম গাছ থেকে সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

নাটোর হর্টিকালচার সেন্টার উপপরিচালক মেফতাহুল বারী বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমের বাম্পার ফলন হবে। তা ছাড়া পোকা-মাকড়ে আমের মুকুল নষ্ট না হওয়ার কারণে সব গাছেই প্রচুর পরিমাণে আম ধরেছে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার কম দামেই ভোক্তারা আম খেতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, পরিপক্ব আম বাজারে আনতে আগে থেকেই আম সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সে মোতাবেক আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। যাতে করে কেউ কেমিক্যাল মিশ্রিত আম বাজারজাত করতে না পারে।

 



মন্তব্য