kalerkantho


নমুরা গ্রুপের প্রতিবেদন

চীনের আন্তর্মহাদেশীয় প্রকল্পে লাভবান হবে বাংলাদেশ

বাণিজ্য ডেস্ক   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



চীনের আন্তর্মহাদেশীয় প্রকল্পে লাভবান হবে বাংলাদেশ

চীনের নেতৃত্বাধীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনেশিয়েটিভের (বিআরআই) সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া এবং পাকিস্তান। আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নমুরা গ্রুপের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। তবে এতে সুবিধাভোগী দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি রয়েছে বলেও মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।

বিআরআই হচ্ছে চীন সরকারের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি আন্তর্মহাদেশীয় মেগা প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটি দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের কিছু অংশকে সড়ক যোগাযোগে যুক্ত করবে। টোকিওভিত্তিক নমুরা জানায়, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সুবিধাভোগী হবে পাকিস্তান। এ প্রকল্পের অধীনে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তুলতে চীন এরই মধ্যে ৬২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ প্রকল্পের বহু সুবিধার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পাকিস্তানের পরিবহন নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণ এবং জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা। চীনের এ বিনিয়োগ পাকিস্তানের ২০১৭ সালের জিডিপির ২০ শতাংশের সমান।

নমুরার এপ্রিল ২০১৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশও মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাবে, যা ২০১৭ সালে দেশটির জিডিপির ১৫ শতাংশের সমান। বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার করিডরের অধীনে এ চার দেশের মধ্যে সড়ক, রেইল ও নৌ যোগাযোগ উন্নয়নের পাশাপাশি এয়ার আন্তসংযোগও গড়ে তোলা হবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়াও চীনের একটি বড় বিনিয়োগ পাচ্ছে। দেশটি বিআরআই সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু অবকাঠামো প্রকল্পে ৩৪.২ বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে, যা ২০১৭ সালে দেশটির জিডিপির ১০ শতাংশ। তবে চীনের পাশাপাশি চীন থেকে যেসব দেশ বিনিয়োগ পাচ্ছে উভয়ে বেশ কিছু ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

চীনের জন্য ঝুঁকি হচ্ছে বেশ কিছু বিআরআই প্রকল্পের বিনিময়ে প্রাপ্তি হবে কম, যা দেশটির আর্থিক খাতে চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে উপকারভোগী দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি হচ্ছে—তাদের ঋণের বোঝা বাড়বে, সার্বভৌম ইস্যু, বাস্তবায়ন বিলম্ব এবং ব্যালান্স অব পেমেন্ট ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো সামনে চলে আসতে পারে। তবে নমুরা মনে করে যেসব ঝুঁকি রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিআরআই বিনিয়োগের ফলে মূলধনী যন্ত্রপাতির চাহিদা তৈরি হবে এবং নির্মাণ, শিল্প, টেলিকম, পরিবহনের মতো খাতগুলোতে অবকাঠামা চাহিদাও তৈরি হবে। বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন খাতও এতে লাভবান হবে।

নমুরা মনে করে বিআরআই প্রকল্প চীনের মুদ্রার ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে এ মুদ্রা কিছুটা অতিমূল্যায়িত হচ্ছে; কিন্তু বাণিজ্যিক চাহিদা বাড়লে ভবিষ্যতে এটি আরো বেশি অতিমূল্যায়িত হবে। এশিয়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট।

 



মন্তব্য