kalerkantho


বন্ড দুর্নীতি বন্ধে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছে এনবিআর

ফারজানা লাবনী   

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



বন্ড দুর্নীতি বন্ধে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছে এনবিআর

বন্ড দুর্নীতিতে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে দেওয়া এক চিঠিতে ব্যবসায়ী অথবা এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ বন্ড দুর্নীতিতে জড়িত আছে, এমন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তা সরাসরি এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এনবিআর চেয়ারম্যানের এ চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবাই দেশের উন্নয়নে কাজ করছি। বন্ড দুর্নীতির কারণে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাছে। বন্ড দুর্নীতিতে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করতে এনবিআর সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। কোনো এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারী বন্ড দুর্নীতিতে সহযোগিতা করলে তাঁকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। বন্ড দুর্নীতিবাজদের খুঁজে বের করতে এফবিসিসিআইকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হলো। বন্ড দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে সরাসরি এনবিআর চেয়ারম্যানের দপ্তরে তথ্য-প্রমাণসহ জমা দিতে অনুরোধ করা হলো।’

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্ড দুর্নীতি ভয়াবহ সমস্যা। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বন্ড সুবিধায় পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেশের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। বন্ড সুবিধার আড়ালে অর্থপাচার করছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীকে শাস্তির আওতায় আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ আছে, বন্ড দুর্নীতিতে জড়িত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এনবিআরের অনেক অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বন্ড দুর্নীতিতে সহযোগিতা করছে। আমি সততায় বিশ্বাসী। বন্ড দুর্নীতিতে যে জড়িত থাকবে তাকেই শাস্তির আওতায় আনা হবে। এসব দুর্নীতিবাজকে চিহ্নিত করতে সবার সহযোগিতা চাই।’

এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সৎ অসৎ সব জায়গায় আছে। বন্ড দুর্নীতি এককভাবে কোনো ব্যবসায়ীর পক্ষে করা সম্ভব নয়। এ অপকর্ম করতে অসৎ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এনবিআরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহযোগিতা করে। এফবিসিসিআই বন্ড দুর্নীতিবাজ অসাধু ব্যবসায়ী ও এনবিআরের অসৎ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যানের লেখা চিঠিতে এফবিসিসিআইকে বিভিন্ন বন্দর নজরদারি করে বন্ড দুর্নীতি বিষয়ে প্রতি তিন মাসে একটি প্রতিবেদন চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিভিন্ন বন্দরে বন্ড দুর্নীতি সম্পর্কে কী কী তথ্য পেয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনকে তা এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এনবিআরসংশিষ্ট কোনো ব্যক্তি বন্ড দুর্নীতিতে সহযোগিতা করেছে, ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে এমন তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান এফবিসিসিআইর দেওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে দেখবেন। দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

বন্ড দুর্নীতি বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত চিঠি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সহিদুল ইসলামের কাছেও পাঠানো হয়। এ চিঠিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক টাস্কফোর্স গঠন করে বন্ড দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে নামতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ড দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতেও বলেছেন এনবিআর চেয়াম্যান। দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ড দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীকে শাস্তির আওতায় আনতে মামলা করা হবে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্ড দুর্নীতিতে এ দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। শুধু বন্ড দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হলে রাজস্ব আদায় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। শুল্ক গোয়েন্দা এনবিআরের নির্দেশে বন্ড দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সৎ ব্যবসায়ীরা বন্ড দুর্নীতির কারণে পথে বসছে। তারা চায় বন্ড অপব্যবহার বন্ধ হোক। সৎ ব্যবসায়ীরা এসব দুর্নীতিবাজকে চিহ্নিত করতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এনবিআরসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি এ অপব্যবহারে জড়িত থাকলে তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।



মন্তব্য