kalerkantho


রাশিয়ার পোশাকের বাজার ধরতে নানা তৎপরতা

এম সায়েম টিপু   

১৮ মে, ২০১৮ ০০:০০



রাশিয়ার পোশাকের বাজার ধরতে নানা তৎপরতা

শুল্ক ও আর্থিক লেনদেনের কিছু জটিলতার কারণে রাশিয়ার বাজারে প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না। তবে রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা মনে করছেন, সেখানে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বড় বাজার হতে পারে। এ সম্ভাবনার বড় বাজার ধরতে বিভিন্ন তত্পরতাও শুরু করেছেন তাঁরা। পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রাশিয়ায় তৈরি পোশাক খাতের পাঁচ হাজার কোটি ডলারের বাজার রয়েছে। ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাও বেশি।

উদ্যোক্তারা জানান, রাশিয়ার মস্কোতে আগামী ২১ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট পণ্যের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বস্ত্র ও পাট খাতের উদ্যোক্তারা এ মেলায় অংশগ্রহণ করছেন। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, মেলা অনুষ্ঠিত হবে মস্কোর র‌্যাডিসন স্নাভিয়ানস্কায়া হোটেল অ্যান্ড বিজনেস সেন্টারে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি এবং মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস এই মেলার আয়োজন করছে।

বিজিএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাশিয়া তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বড় বাজার। কিন্তু ওই বাজারে শুল্ক বাধাসহ নানা রকম প্রতিবন্ধকতার কারণে ওই বাজারে আমাদের অংশগ্রহণ একেবারেই কম। তবে আমাদের প্রত্যাশার অনুষ্ঠিতব্য বস্ত্র ও পোশাক খাতের প্রদর্শনীর ফলে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বিরাজমান প্রতিকূলতা দূর হবে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা রাশিয়ার বাজারে নিজেদের উপযোগী করার অভিজ্ঞতাও পাবে।’

জানা যায়, তৈরি পোশাক খাতের মালিক ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ, পাট খাতের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বিজেএমসি ও জুট ডাইভারফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) এ মেলায় অংশ নেবে। বস্ত্র ও পাটসংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, মন্নুজান সুফিয়ান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়জুর রহমান এই মেলায় অংশ নেবেন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ও বিজিএমই সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৬ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। যে কারণে বাংলাদেশ এ বাজারে বড় ধরনের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে। তারা জানায়, রাশিয়ার সঙ্গে তাদের জোটভুক্ত দেশ উজবেকিস্তান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মলদোভা, আর্মেনিয়া, ও আজারভাইজানের ভালো বাণিজ্যিক যোগাযোগ রয়েছে। এসব দেশের মানুষ অবাধে রাশিয়ায় যাতায়াত করে। সুতরাং রাশিয়ায় মেলা হলে সিআইএস জোটভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশের পণ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। সূত্রগুলো আরো জানায়, রাশিয়ার পরই জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশের বন্ত্র, পাট ও চামড়াজাত পণ্যের মেলা হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বারের পাট বহুমুখীকরণবিষয়ক বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক ও ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. রাশেদুল করিম মুন্না কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইউরোপ এবং আমেরিকার পর ইস্ট ইউরোপের গতিশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাময় দেশ রাশিয়া। তবে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশ কিছু বাধা রয়েছে দেশটির সঙ্গে। আমাদের প্রত্যাশা, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে বিশেষ চুক্তি করা গেলে পূর্ব ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

রাশিয়া বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিভিন্ন বিয়য়ে রাশিয়া বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে থাকে। রাশিয়া বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে প্রায় ১২ বিলিয়ন ইউএস ডলার বিনিয়োগ করেছে। এটি দেশে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ। এখানে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদিত হবে। আগামী ২০২৪ সালে এটি চালু হবে। কিন্তু বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাশিয়া বাংলাদেশকে প্রায় ৭১টি পণ্য রপ্তানিতে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে এ বাণিজ্য সুবিধা পায় না।



মন্তব্য