kalerkantho


ত্বকের সুরক্ষায় ‘রিবানা’ সাবান

শওকত আলী   

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



ত্বকের সুরক্ষায় ‘রিবানা’ সাবান

মানুষ তার ত্বকের যত্নে কত কিছুই না করে। কেউ ভালো ত্বককে যত্নে রাখতে, কেউবা আবার ত্বকের সমস্যার কারণে নানা প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকে। আর ত্বকের পরিচর্যায় সাবান একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবেই পরিচিত। অনেক সাবানের ভিড়ে এবার একজন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করছেন ক্ষতিকারক উপাদানমুক্ত ‘রিবানা’ ব্র্যান্ডের প্রাকৃতিক সাবান, যা বাড়তি কোনো প্রিজারভেটিভ, সুগন্ধি বা কোনো রকমের ক্ষতিকারক উপাদান ছাড়াই তৈরি করা হচ্ছে। এই সাবানগুলো মূলত ত্বকের স্বাভাবিক যত্নের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যারও সমাধান হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

দেশে এ ধরনের সাবান বা প্রসাধনীর বাজারটি মূলত ভারত, থাইল্যান্ড, চায়না, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের নানা প্রডাক্টের দখলে। তবে এ খাতে এখন সাহস করে এক-দুজন করে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন। এ রকমই নতুন এক উদ্যোক্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান সাদি। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) থেকে ফার্মেসি বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষ করে একটি বেসরকারি ওষুধ কম্পানিতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। চাকরি করলেও আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল আলাদা কিছু করার। নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো। ফার্মেসিতে পড়ার কারণে এবং বাজারে চাহিদার কথা মাথায় রেখেই তিনি ২০১৪ সালে ছোট আকারেই শুরু করেন প্রতিষ্ঠানটির।

ওয়াহিদুজ্জামান সাদি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রসাধনী নিয়ে অনেক চটকদার কথা রয়েছে। মানুষও অনেক মিথ্যা বিজ্ঞাপনে প্রতারিত হন। এই দিক থেকে দেখলে এই সেক্টরে দাঁড়ানোটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দেশে অনেক বড় বাজার রয়েছে। সবদিক চিন্তা করেই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি।’

এ উদ্যোক্তা নিজের শুরুর কথা বলতে গিয়ে জানান, চাকরির পাশাপাশিই তিনি রিবানার যাত্রা শুরু করেন। নিজের পড়াশোনার সঙ্গে বিষয়গুলোর সম্পৃক্ততার কারণে কাজ করতে অনেকটাই সহজ হচ্ছে তাঁর জন্য। নিজের জমানো লাখ পাঁচেক টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি এ ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন বলে জানান।

বিরানার বয়স পাঁচ বছর চলছে জানিয়ে এর উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমি একটু ধীরে চলতে চাই। কারণ প্রতিটা পণ্য যাতে মানুষ ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে সে জন্য মান নিয়ন্ত্রণে অনেক সময় দিতে হয়। ঠিকভাবে কাজ করছে কি না সেটাও সময় নিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে। এ জন্য একেকটা নতুন প্রডাক্ট আনতে বেশ সময় লেগে যায়।’

তার পরও বেশ কিছু সাবান তিনি তৈরি করছেন। এর জন্য ছোট্ট একটি ল্যাবরেটরিও রয়েছে তাঁর। কলাবাগানের দ্বিতীয় লেনের ল্যাবরেটরিতেই চলে এ উদ্যোক্তার কর্মকাণ্ড। বাজার থেকে চাহিদা নিয়ে তিনি বিভিন্ন রকমের সাবান তৈরি করে দিচ্ছেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি অনলাইনেই তাঁর রিবানা ব্র্যান্ডের একটি বাজার গড়ে তুলেছেন। প্রতি মাসে যে পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানান।

হাতে তৈরি যেসব সাবান বিক্রি করছেন তাঁর মধ্যে রয়েছে ‘অ্যাক্টিভেটেড কার্বন’, যা স্ক্রিনের ব্রণ, জমে থাকা ডাস্ট, অ্যালার্জির বিরুদ্ধে কাজ করে। ‘স্যাফরন গটমিল্ক’ নামের অন্য একটি সাবান রোদে পোড়া ভাব দূর করতে সহায়তা করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে কাজ করে। এ ছাড়া ত্বককে মোলায়েম রাখতে রয়েছে ‘গটমিল্ক’, মেকআপ তুলতে ‘মেকআপ রিমোভার’, চুলের যত্নে ‘ব্ল্যাক ক্যাস্ট্রল অয়েল’ এবং ‘কোকোনাট অয়েল’ উল্লেখযোগ্য। রিবানা অ্যাক্টিভেটেড কার্বন সোপ, অর্গানিক কোকোনাট অয়েল সোপ ৩৫০, মেকআপ রিমুভ সোপ ৪৫০ এবং গোট মিল্ক সোপ ৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে।

ওয়াহিদুজ্জামান সাদি বলেন, ‘মূলত এই সাবানগুলোতে কোনো প্রকার প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয় না। কালার ফ্রাগন্যান্ট বা ক্ষতিকর কোনো কেমিক্যালও ব্যবহার করা হয় না। ‘পিউরিটি’ আমার প্রডাক্টের আসল চরিত্র। ফলে যার যে ধরনের সমস্যা রয়েছে সে ক্ষেত্রে তাঁরা উপকার পাবে এবং স্ক্রিনে কোনো ক্ষতির শঙ্কা নেই।’



মন্তব্য