kalerkantho


বিশ্বে পাল্পের দাম বাড়ায় প্রভাব পড়ছে কাগজের বাজারে

বাণিজ্য ডেস্ক    

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বিশ্বে পাল্পের দাম বাড়ায় প্রভাব পড়ছে কাগজের বাজারে

বিশ্ববাজারে কাগজ তৈরির মণ্ড (পাল্প) ও কেমিক্যালের দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও বাড়তে শুরু করেছে কাগজের দাম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা  জানান, গত ২০-২৫ দিনের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে সব ধরনের কাগজের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এ জন্য ব্যবসায়ীরা মিল মালিকদের দুষলেও আমদানিকারকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে কাগজ ও এর কাঁচামাল পাল্পের দাম বেড়ে গেছে। এর প্রভাবে সামগ্রিকভাবে দাম বেড়েছে কাগজের।

আমদানিকারকদের দাবি গত দুই মাসে বিশ্ববাজারে পাল্পের দাম অনেকটাই বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে এক টন পাল্পের দাম ছিল ৭৫০ ডলার তা এখন ৮৫০ ডলার। সেই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান কমেছে। এসব কারণেই কাগজের দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক বিশ্বের তিন বৃহৎ পেপার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডাইরেক্ট পেপার, স্পাইসার্স এবং বল অ্যান্ড ডোগেট গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাগজের দাম বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মে মাসে আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি বিশ্ববাজারে পাল্প ও কেমিক্যালের দাম বেড়েছে, সেই সঙ্গে শিপিং খরচও বেড়েছে।

গত সপ্তাহে স্পাইসার্স কর্তৃপক্ষ তাদের ক্রেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, আগামী ১ মে থেকে পেপারের দাম ৩-৭ শতাংশ বাড়বে। অব্যাহতভাবে পাল্পের মূল্যবৃদ্ধি ও জাহাজ খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমরা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি। ডাইরেক্ট পেপারের পরিচালক ড্যালে ওনিল বলেন, পাল্পের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে আমরা পেপারের দাম আরেক দফা বাড়াতে পারি।

পাল্প তৈরির প্রতিষ্ঠান উড রিসোর্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে পাল্পের অন্যতম উপাদান কাঠের আঁশের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় কাঠের আঁশের দাম ৪.০ শতাংশ বেড়েছে। 

বিশ্ববাজারে পাল্প ও পেপার কেমিক্যালের দাম বাড়ায় গত জানুয়ারি মাসে ভারতের বাজারে সব ধরনের পেপারের দাম গড়ে ২.৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরেও পেপারের দাম একবার বাড়ানো হয়। দেশটির ব্যবসায়ীদের দাবি বছরের শুরুতেই পাল্প ও পেপার কেমিক্যালের পেছনে খরচ ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

ইন্ডিয়ান পেপার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল রোহিত পণ্ডিত বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথমভাগে ভারত এরই মধ্যে ১৯ লাখ টন পেপার আমদানি করেছে। বছরের শেষ নাগাদ আমদানি ৪০ লাখ টন অতিক্রম করে যাবে। তিনি জানান, পেপার আমদানি আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।

পাল্পের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, কানাডায় দাবানলে বন পুড়ে গেছে, যেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মণ্ড তৈরি হয়। এর পাশাপাশি ব্রাজিলেও পণ্যটির উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দাবানলের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ বনায়নে গুরুত্ব দেওয়ায় পেপার তৈরির উপকরণ পাল্পের দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি টন প্রায় ৮০০ ডলার। যেখানে এক বছর আগে দাম ছিল ৬৫০ ডলার।

এরই মধ্যে চীনের দূষণবিরোধী অভিযানে সরকার এক হাজারেরও বেশি পেপার মিল বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া দেশটি মণ্ড তৈরিতে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত পেপার আমদানিও নিষিদ্ধ করেছে। ফলে এ দেশটিতেও পেপার উত্পাদন কমবে। অন্যদিকে ভারতেও পেপার উত্পাদন কমেছে বছরে ২৫ লাখ টন। ফলে দেশটি রপ্তানির পরিবর্তে বর্তমানে পেপার আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য সার্ক দেশের মধ্যে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, আফগানিস্তান এবং মিয়ানমার তাদের প্রয়োজনীয় পেপারের শতভাগই আমদানি করে থাকে। এ ছাড়া পাকিস্তানও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেপার আমদানি করে। ফলে চীনসহ কয়েকটি দেশে মণ্ড উত্পাদন কমায় বিপুল আমদানির কারণে বিশ্ববাজারে বাড়ছে  পেপারের দাম। যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রিন্ট২১ ডটকম, পাল্পপোর নিউজ ডটকম।

 



মন্তব্য