kalerkantho


শিল্প খাতে বিশেষ অবদানে পুরস্কার পেল ১২ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



শিল্প খাতে বিশেষ অবদানে পুরস্কার পেল ১২ প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গতকাল শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিজ নিজ শিল্প-কারখানায় উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উত্পাদিত পণ্যে উত্কর্ষতা সাধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১২টি শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে ন্যাশনাল প্রডাকটিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গতকাল বুধবার প্রধান অতিথি হিসেবে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নির্বাচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।

শিল্প খাতে বিশেষ অবদানের জন্য চতুর্থবারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের জন্য পাঁচ ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে—বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড ও আরএফএল প্লাস্টিকস লিমিটেড। মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, প্রাণ ফুডস লিমিটেড ও গ্রাফিকপিপল। ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড ও সিনথেটিক এডেসিভ কোং লিমিটেড। মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে একাডেমিক বুক হাউস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ক্যাটাগরিতে কেরু অ্যান্ড কম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, ইস্টার্ন কেবলস লিমিটেড ও গাজী ওয়্যারস লিমিটেড।

পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানি ব্যবহার করে শিল্প-কারখানায় সর্বোচ্চ উত্পাদনশীলতা নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিল্পায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি ও উদ্যোগের ফলে দেশে শিল্পায়নের ধারা জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে জাতীয় আয়ের শিল্প খাতের অবদান ৩৩ শতাংশ এবং সেবা খাতের অবদান ৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাংক, বীমা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা পশ্চিম পাকিস্তানি ও বিহারিদের হাতে ছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় আজ বাংলাদেশে বড় বড় শিল্প উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন। তিনি শিল্প-কারখানায় উত্পাদিত পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন ও উত্কর্ষ সাধনের ওপর গুরুত্ব দেন। শিল্প উদ্যোক্তাদের চাহিদামাফিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদনে সক্ষম হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে শিল্প, সেবা, কৃষিসহ সব খাতে উত্পাদনশীলতা বাড়াতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্প উদ্যোক্তারা উত্পাদনশীলতা বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও বন্দর সুবিধা বৃদ্ধির তাগিদ দেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান, এনপিওর পরিচালক এস এম আশরাফুজ্জামান। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল হক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল ইসলাম চৌধুরী এবং কেরু অ্যান্ড কম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বক্তব্য দেন।


মন্তব্য