kalerkantho


এমটিবি স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধনীতে আনিস এ খান

ঋণের সুদহার কমতে তিন থেকে ছয় মাস লাগবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ঋণের সুদহার কমতে তিন থেকে ছয় মাস লাগবে

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খানসহ অন্য কর্মকর্তারা

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমানত পেতে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে। কেননা মেয়াদপূর্তি না হলে আমানতগুলো তুলে অন্যত্র রাখবে না সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা। তা ছাড়া সঞ্চয়পত্রের উচ্চ মুনাফার ফলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি আমানত আসছে না ব্যাংকগুলোতে। এই অবস্থায় ঋণের সুদহার কমাতে হলে আমানতের সুদহার কমানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান।

গতকাল রবিবার মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধনকালে আনিস এ খান বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে রাখার ঘোষণা থাকলেও এটা কার্যকর হতে সময় লাগবে। দেশে আমানতের কোনো ঘাটতি নেই। বেশির ভাগ টাকা রয়েছে সরকারি ব্যাংকে। ছয় মাস বা এক-দুই বছরের বেশি সময়ের আমানতগুলো আছে সরকারি ব্যাংকগুলোতে। এসব আমানতের মেয়াদপূর্তি না হলে টাকাগুলো তারা সেখান থেকে তুলবে না। মেয়াদপূর্তির পরে গ্রাহকরা সিদ্ধান্ত নেবে কোন ব্যাংককে রাখবে।

রাজধানীর বাংলামোটরে এমটিবি টাওয়ারে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ঋণের সুদহার কমে আসতে তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগবে বলে জানান এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান। দীর্ঘমেয়াদি আমানত না থাকার পরও দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করাকে ‘মিসম্যাচ’ উল্লেখ করে মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংক নির্বাহী বলেন, ‘ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি আমানতের জন্য বিশেষ স্কিম চালু করতে পারে। যাতে টাকা দীর্ঘদিন ব্যাংকের কাছে থাকে। গ্রাহক নিয়মিতভাবে টাকা জমা করলে প্রথম বছর ৫ শতাংশ সুদ পেলে দ্বিতীয় বছর ৬ শতাংশ পাবে। এভাবে প্রতিবছর বাড়তি ইন্টারেস্ট রেট পাবে। কম খরচের আমানতে ফিরে আসতে তিন থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে।’

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অবদান তুলে ধরে এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ খাতের ৪০টি ব্যাংক ব্যবসা-বাণিজ্যে অর্থায়নে সহায়তা করছি। শতকোটি ডলারের প্রকল্পগুলোতে সরকারের সহায়তার পাশাপাশি বেশির ভাগ সহায়তা আমরা  (বেসরকারি ব্যাংক) দিয়েছি। সরকারি ব্যাংক সারা দেশে সেবা দিলেও চুক্তির কারণে জনগণকে অর্থায়ন করতে পারে না। তাদের আমানতের ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেওয়া আছে।’

আমানতের সুদহার হুট করে বাড়িয়ে দেওয়াটাকে পছন্দ করতে পারেননি উল্লেখ করে আনিস এ খান বলেন, ‘আমি সব সময় মনে করি লো ইন্টারেস্ট রেট না হলে বিনিয়োগ করা সহজ হয় না। ১০ শতাংশ রেটে ডিপোজিট নিলে সিআরআর এসএলআর মিলে ১১ শতাংশর ওপরে পড়ে যায়। তারপর ব্যাংকের পরিচালন খরচ আছে। আমরা কত শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করব? ১৫-১৬ শতাংশ সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা চালু রাখতে পারবে না। আবার ঋণ দিলে ওই ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ১ শতাংশ সাধারণ প্রভিশন রাখতে হয়। তাই আমানতের সুদহার কম থাকতে হবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোর বিশেষ সঞ্চয় স্কিম চালু করতে হবে।’

আমানতের সুদহার কম রাখতে সঞ্চয়পত্র বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এমডি। তিনি বলেন, ‘বিকল্প হিসেবে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসার জন্য ভর্তুকির ব্যবস্থা করবে। আমরা চাই, আমানতের সুদহার আরেকটু কমে আসুক। তাহলেই আমরা স্বল্প সুদে ঋণ দিতে পারব।’

ঋণের সুদহার কত দিনের মধ্যে কমে আসতে পারে—এমন এক প্রশ্নের জবাবে আনিস এ খান বলেন, ‘তিন থেকে ছয় মাস সময় তো লাগবেই।’ এমটিবির স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা লাইফস্টাইল বেনিফিটসের জন্য ডিসকাউন্ট, আকর্ষণীয় ইন্টারেস্ট রেট, স্টুডেন্ট ফাইল প্রসেসিং ফিতে ডিসকাউন্ট এবং কমপ্লিমেন্টারি ইনস্যুরেন্স কাভারেজ সুবিধা পাবে।

এ বিষয়ে আনিস এ খান বলেন, ‘এমটিবি সব সময় উদ্ভাবনী গ্রাহকসেবার প্রতি গুরুত্বারোপ করে থাকে। এরই অংশ হিসেবে আমরা দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য চমৎকার সব আর্থিক সেবা নিয়ে এসেছি। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা গ্রুপ লাইফ কাভারেজ, দুর্ঘটনাজনিত মেডিক্যাল পরিশোধ সুবিধাসহ বিভিন্ন সেবা উপভোগ করতে পারবে।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এমটিবির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ অপারেটিং অফিসার মো. হাসেম চৌধুরী।



মন্তব্য