kalerkantho


কৌশলগত অংশীদার নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

শর্তেই ঘুরছে চীনা প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



শর্তেই ঘুরছে চীনা প্রস্তাব

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত অংশীদার হতে চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামকে পাঁচটি শর্তের মধ্যে থেকে নতুন করে সংশোধিত শেয়ার ক্রয় চুক্তিপত্র চেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কৌশলগত অংশীদার নির্বাচনে কমিশনের বাঁছাই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেশের আইন ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থবিরোধী শর্ত থাকায় নতুন শর্ত জুড়েছে কমিশন।

চুক্তিপত্রে বেঁধে দেওয়া পাঁচ শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে ডিএসইকে নতুন সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানোর সুযোগ দিচ্ছে বলে জানায় কমিশন। এই বিষয়ে ডিএসইর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শর্ত জুড়ে দিয়ে চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবকে আটকাল কমিশন। কৌশলগত অংশীদার বাঁছাই দীর্ঘায়িত হবে।

গতকাল সোমবার কমিশনের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেশের স্বার্থবিরোধী ও আইনে নানা বিষয়ে ব্যাখ্যা চায় কমিশনের বাঁছাই কমিটি। ব্যাখ্যা চাওয়া বিষয়ের বেশির ভাগই প্রত্যাহার করে দেশের আইন অনুযায়ীই চুক্তি হবে বলে জানায় ডিএসই। বিনিয়োগকারীর স্বার্থবিরোধী বিষয়ও প্রত্যাহার করেছে ডিএসই।

ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী, ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রিতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে শেয়ারপ্রতি দাম ও কারিগরিতে সহায়তা বিবেচনায় ডিএসইর পর্ষদ চীনা কনসোর্টিয়ামকে বেছে নেয়। চীনা কনসোর্টিয়াম ২২ টাকা দামে ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি শেয়ার কিনতে চায়। পাশাপাশি কারিগরি উন্নয়নে ৩৭ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়।

১৯ ফেব্রুয়ারি পর্ষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি কমিশনে প্রস্তাব পাঠায়। প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় আরো এক সপ্তাহ সময় বাড়ানো হয়।

উল্লেখ্য, ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক কনসোর্টিয়াম ১৫ টাকা দামে শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। দাম প্রস্তাব কম হওয়ায় ডিএসই এই প্রস্তাব বাতিল করে। এতে যেকোনো মূল্যে অংশীদার পেতে ডিএসইর ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। তবে কমিশন চাপের বিষয় অস্বীকার করে প্রস্তাব পেলে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানায়।

বাঁছাই কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন বলছে, চীনের শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের অফার ও শেয়ার ক্রয় চুক্তিপত্র অনুমোদন দিতে চায় না। দেশের আইন ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থবিরোধী শর্ত চীনা কনসোর্টিয়াম এরই মধ্যে প্রত্যাহার করে ডিএসইকে জানিয়েছে। এতদসত্ত্বেও পাঁচটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ডিএসইকে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানোর সুযোগ দিচ্ছে কমিশন।

শর্তগুলো হচ্ছে শেয়ার ক্রয় চুক্তিতে এমন শর্তাবলি থাকবে না, যা দেশের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, ডিএসইর সাধারণ শেয়ারগ্রাহক ও শেয়ারবাজারের উন্নয়নবিরোধী; কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব গ্রহণের স্বার্থে প্রস্তাবে ডিএসইর বর্তমান সংঘবিধি ও সংঘস্মারকে কোনো সংশোধনের শর্ত রাখা যাবে না; কৌশলগত বিনিয়োগকারীর শেয়ার ক্রয় চুক্তিপত্র কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে ডিএসইর সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে হবে; বিএসইসির যাচাই কমিটির প্রতিবেদন ও কনসোর্টিয়ামের শর্তাবলি প্রত্যাহারের বিষয়ে ডিএসইকে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে সাধারণ সভার নোটিশসহ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে হবে এবং সাধারণ সভার বিবরণীর সঙ্গে কনসোর্টিয়ামের চূড়ান্ত প্রস্তাব, সংশোধিত চুক্তি ও অন্যান্য নথিপত্র কমিশনে জমা দিতে হবে।

 


মন্তব্য