kalerkantho


পুঁজিবাজারে অস্থিরতায় রাস্তায় বিনিয়োগকারীরা

ডিএসইতে ২০ মাসের সর্বনিম্ন লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পুঁজিবাজারে অস্থিরতায় রাস্তায় বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজারে চলমান অস্থিরতায় তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। বাজারের অব্যাহত পতন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভে তারা বলছে, অব্যাহতভাবে বাজারের পতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা লোকসানে পড়ছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ করেছে। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, কৃত্রিমভাবে বাজারে পতন ঘটানো হচ্ছে। বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই বিক্ষোভ করে বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার বাজারে শেয়ার কেনা চাপ থাকলেও লেনদেন ছিল অনেকটা ধীরগতি। বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২২৪ কোটি আট লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছে ১১ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৮২ কোটি ৩১ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল প্রায় ৮২ পয়েন্ট। আর সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বুধবার ডিএসইর লেনদেন গত ২০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৬ সালের ১০ জুলাই এই বাজারে লেনদেন হয়েছিল ২০৯ কোটি টাকা। ওই সময়ের পর গতকালই সবচেয়ে কম লেনদেন। আর সিএসইতেও প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন। ২০১৩ সালের ১০ মে এই বাজারে লেনদেন হয়েছিল ১১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর শেয়ার কেনার চাপে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে সূচক কমলেও উত্থানেই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬৩৫ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৯০ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৩৪ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৯৩টির, কমেছে ৯২টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টি কম্পানির শেয়ার দাম।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে মুন্নু সিরামিক্স। কম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি এক লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রামীণফোনের লেনদেন হয়েছে সাত কোটি ১৩ লাখ টাকা। আর তৃতীয় স্থানে থাকা ইফাদ অটোসের লেনদেন হয়েছে ছয় কোটি ৪০ লাখ টাকা। অন্যান্য শীর্ষ কম্পানি হচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, এসিআই ও ফরচুন সুজ।

দাম বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্স, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সায়হাম টেক্সটাইল, মুন্নু সিরামিক্স, আমরা নেটওয়ার্ক, এফএএস ফাইন্যান্স ও  বিজিআইসি। দাম কমার শীর্ষে রয়েছে রিপাবলিক ইনস্যুরেন্স, ফার্স্ট জনতা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, রিলায়েন্স ওয়ান, প্রগতি ইনস্যুরেন্স, বারাকা পাওয়ার, এশিয়া ইনসু্যুরেন্স ও নুরানি ডায়িং।

 



মন্তব্য