kalerkantho


পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতন

বিনিয়োগকারীরা গতকাল মতিঝিলের ডিএসই কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। আর অস্থিরতা থেকেই শেয়ার বিক্রির চাপে দীর্ঘায়িত হচ্ছে পতন। চলতি সপ্তাহের তিন দিনই পুঁজিবাজারে বড় পতন ঘটেছে। এতে কম্পানির শেয়ারের দাম কমার সঙ্গে কমছে বাজার মূলধন আর মূল্যসূচক।

এদিকে ক্রমাগত নিম্নমুখী বাজার নিয়ে পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। গতকাল সোমবার মতিঝিলের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ করে তারা। আগের দিন রবিবারও বিক্ষোভ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীরা বলছে, বাজারে পতনের মতো কোনো কারণ নেই। তবু ধারাবাহিকভাবে পড়ছে বাজার। শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় অনেকের শেয়ারে লোকসান হচ্ছে। বাজার নিয়ে কারো যেন মাথাব্যথা নেই। নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান থেকে আইসিবিরও কোনো ভূমিকা নেই। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদের বিনিয়োগের বিপরীতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর মতো হয়েছে। শেয়ার কিনে বিক্রি করছে। যেকোনো মূল্যেই বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিনিয়োগকারীরা ব্যানার হাতে রাস্তায় নামে। প্রথমে মানববন্ধন করতে পুলিশ বাধা দিলেও পরে অল্প সময়ের জন্য মানববন্ধন করতে দেয়। ব্যানারে লেখা ছিল, লুটেরাদের হাত থেকে পুঁজিবাজারকে রক্ষা করো, পুঁজিবাজার ঠিক করো, নয়তো বুকে গুলি করো। এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, পুঁজিবাজারে পতন হওয়ার মতো কিছুই ঘটেনি। পাতানো খেলায় বাজারে কৃত্রিম প্রভাব সৃষ্টি করা হয়েছে। পুঁজিবাজারের বর্তমান মন্দাবস্থায় আইসিবিও নিষ্ক্রিয়। এখনই উচিত পুঁজিবাজারের দিকে নজর দেওয়া।

এদিকে তিন দিনে ডিএসই প্রধান সূচক কমেছে ২০৪ পয়েন্ট আর সিএসই সূচক কমেছে ৩৬৯ পয়েন্ট। লেনদেনও নেমেছে ২০০ কোটি টাকার ঘরে। গতকাল মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৮২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে প্রায় ৮২ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ডিএসইর সূচক আট মাস ২১ দিন বা ১৭৮ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৭ সালের ২২ জুন ডিএসইর ডিএসইএক্স পাঁচ হাজার ৫৯৯ পয়েন্টে ছিল।

দিন শেষে সূচক কমার মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬২৩ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ২১ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৮৫ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৩৬ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮টির, কমেছে ২৯১টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭ কম্পানির শেয়ারের দাম।



মন্তব্য