kalerkantho


ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি

এক্সপোজারের কারণে সহায়তা পাচ্ছে না পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



এক্সপোজারের কারণে সহায়তা পাচ্ছে না পুঁজিবাজার

পুঁজিবাজারে কম্পানির শেয়ারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ (এক্সপোজার) গণনায় মার্ক টু মার্ক হিসাব বিবেচনায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা কমেছে। অনেকের হাতে বাড়তি ফান্ড থাকলেও সীমা অতিক্রমের ভয়ে বিনিয়োগ করতে পারছে না। আর বাড়তি ফান্ড না আসায় বাজারে তারল্য সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

ধারাবাহিক পতন আর অস্থিরতায় পুঁজিবাজারে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কারণেই হচ্ছে। এক্সপোজারের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বড় বিনিয়োগকারীরা সাপোর্ট দিতে পারছে না। আর যেটা দিচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। ফান্ড থাকার পরও এক্সপোজারের কারণে বিনিয়োগ করলেই বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে কিছুটা নমনীয় হতে হবে।

একটানা পতনে অস্থির হয়ে ওঠা পুঁজিবাজারের কারণ খুঁজে বের করতে মঙ্গলবার বিকেলে জরুরি বৈঠক করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া বৈঠকে ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, লিস্টেড কম্পানি অ্যাসোসিয়েশন, লিজিং কম্পানি অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংক কম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার মূলধনের (পরিশোধিত মূলধন, স্ট্যাটিউটরি রিজার্ভ, রিটেইনড আর্নিং ও শেয়ার প্রিমিয়ামের যোগফল) সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারে। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিনিয়োগ সীমা বেঁধে দিয়েছিল। ২০১০ সালে বেশ কিছু ব্যাংক পুঁজিবাজারে ব্যাপক পরিমাণে বিনিয়োগে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই সীমা বেঁধে দেয়। আর বাড়তি অর্থ সমন্বয়ে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

জানা যায়, পুঁজিবাজারে কম্পানির শেয়ারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ হিসেবে মার্ক টু মার্ক বা মার্ক হিসাব করা হয়। অর্থাৎ কোনো কম্পানির শেয়ার কেনা দামে না করে ওই শেয়ারের বাজারমূল্য ধরে এক্সপোজার হিসাব করা হয়। এতে কোনো শেয়ারের দাম বাড়লে সেটা এক্সপোজারে প্রভাব ফেলে। সীমার মধ্যে থাকতে গিয়ে শেয়ার বিক্রি করতে হয়। তবে বরাবরই এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে তারা।

মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘তারল্য সংকট থেকে উত্তরণে ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) ১ শতাংশ কিংবা ০.৫০ শতাংশ কমানো, ব্যাংকগুলোর এক্সপোজারে সাবসিডিয়ারি কম্পানির বিনিয়োগ, বন্ড ও অতালিকাভুক্ত কম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের আওতায় না নেওয়া, বাজার দামে না ধরে কেনা দামে হিসাব করতে হবে। এতে বাজারের গতি বাড়বে। মার্চেন্ট ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারি কম্পানিগুলোকেও মার্কেট সাপোর্টে এগিয়ে আসতে হবে। মোস্তাক আহমেদ বলেন, বাজারে তারল্য সংকট প্রকট। পাশাপাশি আস্থার সংকটও সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাজারে পতন হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাজারে তারল্য ও আস্থা সংকট দূর করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যাংক আমানতের ঋণের অনুপাত (এডি রেশিও) কমানো, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ফান্ড বৃদ্ধি ও ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সীমায় পরিবর্তনে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক এডি রেশিও কমানোর বিষয়টি স্থগিত করেছে। আর অন্যগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। বাজারে সাপোর্ট দিতে আইসিবিকে বরাবরই শক্তিশালী অবস্থান নিতে দেখেছি। খোদ আইসিবিকেই যদি দুর্বল করে রাখা হয়; তাতে সাপোর্ট লেবেলও দুর্বল হয়ে যায়।’

মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগে যেসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে; সেগুলো সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে এক্সপোজারের সমস্যা। শেয়ার প্রাইস গণনায় কস্ট প্রাইসে এক্সপোজার বিবেচনা ও বন্ডে বিনিয়োগকে এক্সপোজারের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছি। এ বিষয়ে এখনো তেমন সাড়া পাইনি। আশা করছি বিষয়গুলো নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেলে পুঁজিবাজারও ইতিবাচক হবে।’



মন্তব্য