kalerkantho


আট মাসে প্রবৃদ্ধি ৭.৩৮%

ইতিবাচক ধারায় রপ্তানি আয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দেশের রপ্তানি আয় কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে তাঁরা মনে করেন, সার্বিক রপ্তানি আয় ভালো হলেও এ জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এর পরও তাঁদের আশা, বছর শেষে ইতিবাচক রপ্তানি আয় ধরে রাখা সম্ভব হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবির দেওয়া পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রপ্তানি আয় হয়েছে দুই হাজার ৪৩৯ কোটি ৭০ লাখ ইউএস ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ২৭১ কোটি ৯২ লাখ ডলার। সেই হিসাবে আলোচ্য সময়ে ১৬৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার বা ৭.৩৮ শতাংশ রপ্তানি হয়।

রপ্তানিকারকদের সমিতি এক্সপোর্টার অ্যাসোশিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের পর দেশের রপ্তানি আয়ে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল, ওই অবস্থা থেকে আমরা এরই মধ্যে বের হয়ে এসেছি। গত কয়েক মাসে রপ্তানি আয়ের স্থিতিশীলতা এটাই প্রমাণ করে। তবে এ জন্য আমাদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। গত চার বছরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে সরকারের নীতি সহায়তা অনেক সহায়ক হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সার্বিকভাবে রপ্তানি আয় ভালো হলেও এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এর পরও আমাদের প্রত্যাশা, বছর শেষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হব।’

ইপিবির দেওয়া প্রতিবেদনে দেখা য়ায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি মেয়াদে রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৪৪০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৩০৩ কোটি ডলার। এর বিপরীতে আলোচ্য মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩০৭ কোটি ২১ লাখ ডলারের পণ্য। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৭০ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। সেই হিসাবে আলোচ্য মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৩৬ কোটি ৬২ লাখ ডলার বা ১৩.৫৩ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ৮৬৩ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের পণ্য। এই হিসাবে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৮.৬৮ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে আয় হয়েছে এক হাজার ১২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.০৫ শতাংশ বেশি। আর ওভেন খাতের পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে এক হাজার ১৩ কোটি তিন লাখ ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.৩৭ শতাংশ বেশি।


মন্তব্য