kalerkantho


গ্রাম ও শহর উন্নয়নে ৩৭৬৭ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



গ্রাম ও শহর উন্নয়নে ৩৭৬৭ কোটি টাকা

আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নগর ও গ্রাম উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। আর সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৩০১ কোটি টাকা। প্রকল্প দুটি সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। মঙ্গলবার সংশোধিত এডিপি অনুমোদনের পর গতকালই ছিল প্রথম একনেক বৈঠক।

এদিকে গতকালের একনেক সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আট হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণসংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে দুই হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এই টাকা জোগান দেওয়া হবে। ৫৩২টি ভবনে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের যেসব ফ্ল্যাট দেওয়া হবে, সে জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্ল্যাট পাওয়া সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর সন্তানদের মধ্যে ফ্ল্যাটের উত্তরাধিকার নির্ধারণে এ নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। যেসব জেলা ও উপজেলায় ফ্ল্যাটে ওঠানোর জন্য মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া না যাবে, তখন অন্য কারো কাছে ভাড়া দেওয়া হবে। ভাড়ার টাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে খরচ হবে। কিছুতেই ফ্ল্যাট খালি রাখা যাবে না বলে গতকালের সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণসহ একনেকে ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪৪০ কোটি টাকা খরচ করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) গঠিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সেখান থেকে ৩২০ কোটি টাকা পেল বাংলাদেশ। এটা বড় অর্জন।

গতকালের একনেকে ‘জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ’ শিরোনামের আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৬৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জার্মান সংস্থা কে এফ ডাব্লিউ অনুদান দেবে ৪৪০ কোটি টাকা। এই টাকা সবুজ জলবায়ু তহবিল থেকে পাওয়া যাবে। বাকি ২২২ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে। ব্যয় হবে ৬৬২ কোটি টাকা। গতকাল একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো, ৬২৭ কোটি টাকা খরচে বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) এবং ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ (সংশোধিত) ১২ তলা ভবন নির্মাণ। গতকাল একনেক সভায় যে ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, এর মধ্যে চারটিই সংশোধিত। অর্থাৎ এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি সরকার। ফলে আবারও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে মানুষও সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 


মন্তব্য