kalerkantho


ডিসিসিআইয়ের সেমিনারে হোসেন জিল্লুর

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালক হতে পারে পাট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালক হতে পারে পাট

পাট শুধু বাংলাদেশের সোনালি অতীতই নয়, সোনালি ভবিষ্যৎও। তাই পাট দেশের অর্থনীতির নতুন প্রবৃদ্ধির পরিচালক হতে পারে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে তৈরি পোশাক খাত এবং প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালক হিসেবে কাজ করছে। এখন সময় এসেছে নতুন চালক খুঁজে বের করার। এ ক্ষেত্রে পাটের সম্ভাবনা কাজে লাগানো।

গতকাল বুধবার পাটশিল্পের উন্নয়নে পাটের বহুমুখীকরণ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর এসব কথা বলেন। জাতীয় পাট দিবস-২০১৮ উপলক্ষে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। ঢাকা চেম্বার অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের উপদেষ্টা (গবেষণা) বাবুল চন্দ্র রায়, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এ এফ এম আকতারুজ্জামান এবং বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুল হাসান অংশগ্রহণ করেন।

হোসেন জিল্লুর বলেন, পাটের বহুমুখীকরণের জন্য দেশের উদ্যোক্তারা নিজেদের তৈরি করেছেন এবং এ খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নও বেশ আশাব্যঞ্জক। তবে পাটের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালকে পলিসি আনলকের বর্ষ হিসেবে সামনে নিতে এগোতে হবে।

ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ৯৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার আয় করেছে, তবে পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, বাণিজ্যিক সৃজনশীল-জ্ঞান স্বল্পতার জন্য পাটের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের ব্যাপক সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের মোট পাটের ৩৩ শতাংশ উত্পাদন করে এবং কাঁচা পাটের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি করে। তিনি বলেন, পাট খাতকে এবং দেশে ও বিদেশে পাটের বাজার পুনরুজ্জীবিত করতে জুট পাল্প পেপার অ্যাক্ট এবং পাট আইন প্রণয়ন জরুরি। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা ও ক্রেতার পছন্দের ভিত্তিতেই পাটপণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর আরো মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জুট প্যাকেজিং অ্যাক্টের মাধ্যমে প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কারণে দেশের পাটের উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাট চাষিরা ভালো মূল্যে পাট বিক্রি করতে পারছে। এ ছাড়া পাটের উত্পাদনও বেড়েছে। বর্তমানে আমাদের উদ্যোক্তারা ২৪০ ধরনের পাটপণ্য উত্পাদন করছে, ২০১৭ সালে যেটির সংখ্যা ১৩৫টি। পাট একটি অনন্ত সম্ভাবনা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আগের সরকারগুলোর সহযোগিতার কারণে কৃষকরা বীজ উত্পাদনে বিমুখ হয়ে পড়েছিল। ফলে ৯০ শতাংশ বিজ আমাদের আমদানি করতে হয়। বর্তমান সরকার পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক উদ্যোগ নেয়। এর ফলে আবারও জেগে উঠছে পাট। সরকার এরই মধ্যে ৬টি টেক্সটাইল কলেজ এবং ১২টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছে।

ডিসিসিআইর পাটের বহুমুখীকরণ বিষয়ক বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক এবং ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. রাশেদুল করিম মুন্না মূল প্রবন্ধে বলেন, পরিবেশ সচেতনতা ও সবুজ পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পাটের তৈরি শপিং ও ফুড গ্রেড ব্যাগ, কম্পোজিট, জিও-টেক্সটাইল, পাল্প ও কাগজের বিশাল বাজার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, ইন্টারন্যাশনাল জুট স্টাডি গ্রুপের তথ্যানুযায়ী বিশ্ববাজারে শপিং ব্যাগের বার্ষিক চাহিদা ৫০ বিলিয়ন পিস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১৯ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আমাদের পাটশিল্পের জন্য অত্যন্ত আশার জায়গা তৈরি করেছে। তিনি পাটপণ্যের জন্য রিফিন্যান্সিং ফান্ড বা গ্রিন ফান্ডের আওতায় ঋণ সুবিধা প্রদান, প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 


মন্তব্য