kalerkantho


সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা কাটছাঁট করে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আসবে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। বাকি ৫২ হাজার ৫০ কোটি টাকা আসবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। মূল এডিপিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এক টাকাও কমানো হয়নি। ৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার পুরোটাই উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ফেরত গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

গতকালের এনইসি বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, সংশোধিত এডিপিতে যা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বেশি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বাড়তি টাকা চেয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় চেয়েছে ২৬ কোটি টাকা। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় বাড়তি টাকা চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সবার দাবি শোনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, যার যে দাবি সব মানা হবে। যেসব মন্ত্রণালয়ের বাড়তি টাকার দাবি আছে, তাদের চাহিদামাফিক বরাদ্দ দিতে পরিকল্পনামন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, গতবার মূল এডিপিতে যা বরাদ্দ ছিল, সংশোধিত এডিপি তাই রাখা হয়েছিল; কিন্তু এ বছর সরাসরি তা করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন থেকে এক লাখ ৪৮ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার যে প্রস্তাব এনইসি সভায় ওঠানো হয়েছে, তাই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব মন্ত্রণালয়ের বাড়তি চাহিদা আছে, তাদের তা পূরণ করা হবে; কিন্তু সেটা কত হতে পারে, তা তিনি উল্লেখ করেননি। শুধু জানিয়েছেন, ‘আমি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। হিসাব ভালো বুঝি। কাকে কত টাকা দেব, সেটা আমার কাছে।’

সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বিদ্যুৎ খাত। এর পরে যথাক্রমে আছে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ শিক্ষা ও ধর্ম খাত। অন্যদিকে সংশোধিত এডিপিতে বেড়েছে প্রকল্পসংখ্যাও। মূল এডিপিতে প্রকল্প ছিল ১ হাজার ৩০৮টি। সংশোধিত এডিপিতে এসে মোট প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫৮টিতে। ফলে মূল এডিপির তুলনায় সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প বেড়েছে ৩৫০টি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে প্রধানমন্ত্রী একজন পিডিকে একটি প্রকল্পে নিয়োগ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। এক পিডিকে একাধিক প্রকল্পে না নিয়োগ দিতে বলেছেন। পিডি যাতে প্রকল্প এলাকায় থাকেন, সেটি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে পিডি যাতে ওই বিষয়ে অভিজ্ঞ হন, সেটি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। যদিও আমরা এসব বিষয় পূরণ করতে পারিনি। তবে ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন রাস্তার গুণগত মান বাড়াতে। প্রকল্পে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছেন। আমরা সেগুলো নিশ্চিত করব। তিনি দাবি করেন, সামষ্টিক অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে আছে। যদিও উনারা সেসব ভালো খবর দেখেন না। উনারা বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে, সেটি মন্ত্রী উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরটি অর্থনীতির জন্য অনেক সুখকর। সর্বত্রই অর্থনীতিতে আজ চাঙ্গা ভাব। সার্বিক বিবেচনায় আমরা প্রত্যাশা করছি, আমাদের জিডিপিতেও প্রবৃদ্ধি গত বছরের চেয়ে এ বছর আরো ভালো হবে।

গত বছর আমাদের যে যে খাতগুলো একটু খারাপ অবস্থানে ছিল যেমন-রপ্তানি বাণিজ্য, আবাসন খাত, রেমিট্যান্স এসব খাত এ বছরে অনেক শক্তিশালী। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতিও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। এখন মূল্যস্ফীতির হার ৫.৭২ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির মাধ্যমে আমরা সরকারি বিনিয়োগ করে থাকি। এই এডিপি বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এজেন্সিগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এবং এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ এডিপি আমরা চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি।


মন্তব্য