kalerkantho


বাজারে আসছে ইলিশের সুস্বাদু স্যুপ ও নুডলস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাজারে আসছে ইলিশের সুস্বাদু স্যুপ ও নুডলস

এবার দেশের ইলিশ বিজ্ঞানীরাই ইলিশ খাওয়ার ভিন্ন এক রূপ আবিষ্কার করে ফেললেন, যা কি না বাংলাদেশেই প্রথম আবিষ্কার হলো। সেটা হচ্ছে ইলিশের স্যুপ আর নুডলস। দেড় বছর ধরে নানাভাবে গবেষণা শেষে পাওয়া গেল সফলতা। শুধু আবিষ্কারই নয়, এখন থেকেই তা রীতিমতো পাওয়া যাবে হাটে-বাজারে অন্যসব প্যাকেটজাত স্যুপ আর নুডলসের মতোই।

সরকারের ইকোফিশ প্রকল্পের টিম লিডার ও মৎস্যবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওয়াহাব কালের কণ্ঠকে জানান, বছরতিনেক আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে ইলিশকে ভ্যালু অ্যাডেড প্রডাক্ট হিসেবে রূপ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে মৎস্য অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক আরিফ আজাদ উদ্যোগ নিয়ে ইউএসএইডের অর্থ সহায়তায় ও ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের সমন্বয়ে ইকোফিশ প্রকল্পের আওতায় ইলিশের নতুন রেসিপি তৈরির গবেষণাকাজ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম ইলিশের স্যুপ ও নুডলস তৈরি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। আর এ কাজে সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভার্গো ফিশ অ্যান্ড অ্যাগ্রো প্রোসেস লিমিটেড। যারা এই স্যুপ ও নুডলস বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করবে।

গতকাল মঙ্গলবার এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ও সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইছউল আলম মণ্ডল, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরিফ আজাদ, ইকোফিশ প্রকল্পের টিম লিডার ও মৎস্যবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওয়াহাবসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে গবেষক অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম ইলিশের স্যুপ ও নুডলসের বিষয়ে অবহিত করেন।

মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, বাংলাদেশ আজ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে মাছের মোট উৎপাদন হয়েছে ৪১.৩৪ লাখ মেট্রিক টন। যার প্রায় ১২ শতাংশই হচ্ছে ইলিশ। বাংলাদেশের ইলিশ স্বাদে, গন্ধে সবার সেরা। জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশ। প্রায় ২৫ লাখ মানুষ এই ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণনসহ নানা প্রক্রিয়ায় জড়িত।

তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রেটেন্ড, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর থেকে বাংলাদেশে ইলিশকে জাতীয় মাছ হিসেবে ভৌগোলিক নিবন্ধন দিয়েছে। এখন ইলিশের স্যুপ ও নুডলস আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ইলিশ ভ্যালু অ্যাডেড প্রডাক্ট হিসেবে উৎপাদন ও রপ্তানির অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইকোফিশ বাংলাদেশ প্রকল্পটির পরিচালক আবু সাঈদ মো. রাশেদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ শুধু সরকারের পক্ষ থেকে প্রাইভেট কম্পানি ভার্গো লিমিটেডের কাছে ইলিশের স্যুপ ও নুডলস তৈরির ফর্মুলা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো কবে বাজারজাত করা হবে কিংবা দাম কত হবে তা চূড়ান্ত করা হয়নি। ভার্গো সরকারের সব নিয়ম-নীতি মেনে শিগগিরই এই স্যুপ উৎপাদন ও বাজারে ছাড়বে বলে আশা করি। সেই সঙ্গে দামও সাধারণের নাগালে রাখার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা থাকবে।


মন্তব্য