kalerkantho


জানুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ উল্লম্ফন

শেখ শাফায়াত হোসেন   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জানুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ উল্লম্ফন

গত জানুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রসহ সব ধরনের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে পাঁচ হাজার ১৪০ কোটি টাকা নিট ঋণ এসেছে সরকারের কাছে, যা একক মাস হিসেবে চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ নিট ঋণ। এর আগে সর্বোচ্চ নিট ঋণ হয়েছিল অর্থবছরের শুরুর মাস জুলাইয়ে, পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ৫৩ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকায়, যা অর্থবছরের পুরো সময়ের লক্ষ্যমাত্রার ৯৬.০৬ শতাংশ। ঘাটতি বাজেট অর্থায়নে এই অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে সরকারের ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের করা সঞ্চয় স্কিমগুলোর মাসিক বিনিয়োগ বিবরণী থেকে দেখা যায়, সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসে সব ধরনের সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগ এসেছিল আট হাজার ৬০ কোটি টাকা। এর থেকে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয় স্কিমগুলোর মূল ও মুনাফা বাবদ ওই মাসে দুই হাজার ৯২০ কোটি টাকা বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করে সরকার। ফলে নিট ঋণ দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ১৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে নিট ঋণ হয়েছিল দুই হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। গত নভেম্বরে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা, অক্টোবরে চার হাজার ৬২০ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে তিন হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা, আগস্টে তিন হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা এবং অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাঁচ হাজার ৫৩ কোটি টাকা নিট ঋণ হয়েছিল সরকারের।

কয়েক বছর ধরে সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগ ধারা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি এসে এই ধারায় কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে সরকারের নিট ঋণ এসেছিল ২৩ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা, যা ওই অর্থবছরের জন্য এ খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার নির্ধারিত ঋণের লক্ষ্যমাত্রার ১১৯.৭০ শতাংশ। ওই অর্থবছরে সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে নিট ঋণ হয়েছিল ৫২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছর থেকে সঞ্চয় স্কিমগুলোর মুনাফার হার কমানোর একটি ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দিয়েছিলেন আগেভাগে। সে কারণে গত অর্থবছরের শেষ দিকে এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম দিকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের হিড়িক লেড়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত মুনাফার হার না কমালেও বিনিয়োগের চাপ কমে আসতে শুরু করে। তবে জানুয়ারি মাসে অনেকেই সঞ্চয়পত্র কেনায় এ খাতের ঋণে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

জানুয়ারি মাসে সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে দ্বিগুণ ঋণ আসার কারণ সম্পর্কে ব্যাংক খাত বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকের আমানতের সুদের হার কম ছিল। যে কারণে জানুয়ারিতেও সঞ্চয়পত্রে ভালো বিনিয়োগ হওয়ার কথা। ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার বাড়তে শুরু করেছে। কারণ তাদের (ব্যাংকগুলোর) তারল্য সংকট ছিল। নিশ্চয়ই এই তারল্য অন্য কোথাও গেছে! ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়পত্রের চেয়ে ভালো ক্ষেত্র তো আর দেখি না।’

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, আলোচ্য সাত মাসে সঞ্চয় স্কিমগুলোর মধ্যে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকে। এখানে গত সাত মাসের নিট ঋণ ১০ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, নিট ঋণ সাত হাজার ৮১২ কোটি টাকা। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে নিট ঋণ এসেছে দুই হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে নিট ঋণ এসেছে দুই হাজার ৭৭ কোটি টাকা। তা ছাড়া মেয়াদি হিসাবে জমাকৃত অর্থ রয়েছে চার হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে নিট ঋণ আছে এক হাজার ১৮২ কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের ৩২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়ার কথা রয়েছে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।


মন্তব্য