kalerkantho


রপ্তানি বাজার বড় হচ্ছে না পণ্য বৈচিত্র্যের অভাবে

এম সায়েম টিপু   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রপ্তানি বাজার বড় হচ্ছে না পণ্য বৈচিত্র্যের অভাবে

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উত্পাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণ ব্যর্থতায় পর্যাপ্ত রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এর পরও ইউরোপের বাজারে প্লাস্টিক পণ্য বর্জনের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে এই খাতের রপ্তানি আয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান,  বিশ্বের প্রায় ৮০টির বেশি দেশে এই দেশের পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ায় এর দামও বেড়েছে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়,  বছর শেষে সোনালি আঁশের রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে যাবে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পাট এবং পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ৬৬ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার, যা এ সময়ের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৭.৩৬ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য মোতাবেক, গত সাত মাসে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, পাট সুতা ও কুণ্ডলী রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি হয়েছে ৯ কোটি ২৫ লাখ ডলারের এবং পাটজাত অন্যান্য পণ্য থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ কোটি ৩ লাখ ডলার।

ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৯৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, পাট সুতা ও কুণ্ডলী রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৬০ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি হয়েছে ১২ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের এবং পাটজাত অন্যান্য পণ্য থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ডলার।

পাট ও পাটপণ্য রপ্তানির বিষয়ে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের চাহিদা রয়েছে; কিন্তু উত্পাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে আমরা এখনো পিছিয়ে থাকায় পর্যাপ্ত পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না। তবে সরকার মানসম্মত পাট উত্পাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। আমরা এ জন্য নিয়মিত প্রদর্শনীর আয়োজন করছি। এ ছাড়া পাটকলগুলোর আধুনিকায়নে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নীতি সহায়তার পাশাপাশি পণ্য বৈচিত্র্যকরণে নগদ সহায়তা বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী পাটপণ্য বহুমুখীকরণে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। মানসম্মত পাটজাত পণ্য উত্পাদন হওয়ায় রপ্তানি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে গত ৫ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরের পাটপণ্য ১০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয়ে উন্নীত হলেও পরবর্তী ২ বছর আবার কমতে থাকে। তবে ২০১৫-১৬ সাল থেকে এ আয় বাড়তে থাকে। এ খাত থেকে গত অর্থবছরে আয় হয়েছে ৯৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় ৮০টির বেশি দেশে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের চাহিদা রয়েছে।  এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বড় বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্ক থেকে আয় হয় ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। এর পাশাপাশি ভারতে ১৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার, চীনে ১২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, ইরানে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, বেলজিয়ামে ১ কোটি ৭১ লাখ ডলার, ইউনাইটেড আরব আমিরাতে ১ কোটি ২৯ লাখ ডলার, নেপালে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার, আইভরি  কোস্টে ১ কোটি ২৯ লাখ ডলার, পাকিস্তানে ৪৫ লাখ ডলার, উজবেকিস্তানে ১৮ লাখ ডলার, রাশিয়ায় ১৭ লাখ ডলার, যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ লাখ ডলার, জার্মানিতে ৪৩ লাখ ডলার এবং মিসরে ৩৩ লাখ ডলারের পাটপণ্য রপ্তানি হয়।

পাটজাত পণ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেজিইএ) চেয়ারম্যান এনামুল হক পাটোয়ারি জানান, এ খাতের রপ্তানির কাঁচামাল দেশি হওয়ায় রপ্তানি আয়ের পুরোটাই দেশে থাকে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক খাতের ৩০ শতাংশ বিদেশে চলে যায়। তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে প্লাস্টিক পণ্য বর্জনের ঘোষণায় বেড়েছে পাটের চাহিদা। এ ছাড়া আমাদের মিলগুলো আধুনিকায়ন করা গেলে রপ্তানি সক্ষমতাও বাড়বে।

 


মন্তব্য