kalerkantho


বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বিজনেস কাউন্সিল হচ্ছে বাণিজ্য বাড়াতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বিজনেস কাউন্সিল হচ্ছে বাণিজ্য বাড়াতে

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শক্তিশালী করতে বিজনেস কাউন্সিল হচ্ছে। এরই মধ্যে দুই দেশের ব্যাবসায়িক সংগঠনের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের সফর উপলক্ষে এবার চুক্তির দিকে যাবে। এ ছাড়া বাণিজ্য বাড়াতে একটি রূপকল্প তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে ব্যবসায়ী নেতাদের। গতকাল রবিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা জানান ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

তিনি জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ থেকে সংগঠনের সভাপতির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ভিয়েতনাম সফর করে। এই সফরে এফবিসিসিআই এবং ভিয়েতনাম চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি (ভিসিসিআই) এবং ভিয়েতনাম ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির সঙ্গে আলাদা এবং ভাইস মিনিস্টার প্ল্যানিং আন্ড ইনভেস্টমেন্ট দুয়েন ভ্যান চুং এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে মতবিনিময় হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দেশটির প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে ভিয়েতনাম থেকে ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের ১০০-এর বেশি প্রতিনিধি এসেছেন। এর মধ্যে অবকাঠামো, কৃষিভিত্তিক, টেলিকম আইসিটি, ফুড প্রসেসিং আসছে। সি-ফুড এবং অর্গানিক খাবার মেডিসিনের প্রতিষ্ঠান, তেল, গ্যাস এবং চামড়া খাতের ব্যবসায়ীরা আসছেন।

চামড়াজাত পণ্যের সংযোগ শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা উল্লেখ করে এফবিসিসিআই প্রথম সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ চামড়া খাতের প্রচুর সম্ভাবনা থাকার পর সংযোগ শিল্পের ৮০ পণ্য আমরা আমদানি করে থাকি। তবে সুখবর হলো, ভিয়েতনামে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ এ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমাদের আশা, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ৮০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করবে। এই নিয়ে একটি সমঝোতা স্বারক সই হতে হবে।’

শেখ ফাহিম বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কেননা বাংলাদেশের সামনে সাইভার সভরেন্টি নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে। বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাজারে অগ্রাধিকার সুবিধাগুলো দেশটির ব্যবসায়ীরা কাজে লাগাতে পারবেন।

ভিয়েতনামের জ্ঞানভিত্তির দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এফবিসিসিআইয়ের নেতারা আরো বলেন, ‘ভিয়েতনাম প্রক্রিয়াজাত কৃষি এবং খাদ্যপণ্যের কারিগরি দিকে বেশ এগিয়ে রয়েছে। তাদের জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষতা আমাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। তাদের অবকাঠামোও অনেক উন্নত। এসব থেকে আমাদের অনেক শেখার আছে। একই ধরনের অর্থনৈতিক অবকাঠামো হওয়ার পরও তারা পারছে। আমরা পারছি না। এটা আমাদের খুঁজে দেখার সময় হয়েছে।’

সম্ভাব্য খাতে ব্যবসার বিনিয়োগ বাড়াতে আমাদের এই বিজনেস ফোরামের উদ্যোগ উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, পরিপূর্ণ সংলাপে যেতে চাই এই উদ্যোগের মাধ্যমে। দুই দেশের ব্যবসায়ী এবং ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করবে। এটা নির্ধারণ করবে দুই দেশের ব্যবসা বাড়াতে কোন কোন খাত নিয়ে কাজ করা হবে।

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং গত রবিবার তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুুল হামিদের আমন্ত্রণে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে তাঁর এ সফর। গত ১৪ বছরে এটি ভিয়েতনামের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম বাংলাদেশ সফর। ২০০৪ সালে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ত্রান দাক লুয়ং সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন।



মন্তব্য