kalerkantho


অর্থবছরের আট মাস

প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ১৬.৫৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ১৬.৫৫ শতাংশ

বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির পর ফেব্রুয়ারিতে সেটা কিছুটা কমলেও অর্থবছরের হিসাবে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৪৬ কোটি ১১ লাখ ডলার, যা গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ১৬.৫৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছে ১১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ১৩৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স কিছুটা কমলেও গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় প্রবৃদ্ধি আছে ২২.১৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৪ কোটি সাত লাখ ডলার।

গত জানুয়ারিতে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ৩৭ শতাংশ। কয়েক বছর রেমিট্যান্সে এত বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি। ডলারের বিপরীতে টাকার মান বৃদ্ধি এবং অবৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানো বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের ফলে রেমিট্যান্সে ইতিবাচকপ্রবাহ দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। গত অর্থবছরে বিগত ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আসে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের রেমিট্যান্সের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৪.৪৮ শতাংশ কমে এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে। তার আগের অর্থবছরেও (২০১৫-১৬) রেমিট্যান্স কমেছিল ২.৫৫ শতাংশ। এর আগে দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমেছিল ১.৬১ শতাংশ। এভাবে রেমিট্যান্স কমতে থাকায় নড়েচড়ে বসে সরকার।

রেমিট্যান্স কমার কারণ অনুসন্ধান করতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানতে পারে, দীর্ঘদিন টাকার দর এক জায়গায় স্থিতিশীল থাকায় অবৈধ উপায়ে বেশি অর্থ আসছে। আর এ ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে সহজে সুবিধাভোগীর কাছে অর্থ পৌঁছে দিচ্ছে হুন্ডি কারবারিরা। এরপর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হুন্ডি রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার ৮৮৭ এজেন্ট অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত এবং মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন পরিপালনে ব্যর্থতার দায়ে কেন জরিমানা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে শোকজ করা হয়। অন্য সব প্রতিষ্ঠানকেও সতর্ক করা হয়। গত ২৯ জানুয়ারি মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অপব্যবহার করে হুন্ডি তৎপরতা রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান। অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১১৬ কোটি ডলার। নভেম্বরে ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১১৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার, আগস্টে ১৪১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার এবং অর্থবছরের শুরুর মাস জুলাইয়ে ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার রেডিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা।



মন্তব্য