kalerkantho


পিকেএসএফের সেমিনারে বক্তারা

বৈষম্য শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মাথাপিছু জাতীয় আয় বাড়লেও দেশে প্রতিনিয়তই বৈষম্য বাড়ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁরা বলেছেন, দেশে বৈষম্য বহুমাত্রিক। শহরের চেয়ে গ্রামে এই চিত্র প্রকট। এখনই লাগাম টানতে হবে আয় বৈষম্যের। এটি করতে না পারলে জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলেও মত অর্থনীতিবিদদের। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, প্রবৃদ্ধি হতে হবে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

‘গণমানুষের কণ্ঠস্বর : বাংলাদেশে ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন’ শিরোনামের সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বাস্তবায়নবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক আবদুস সালাম, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী, পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিমসহ অন্যরা।

মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, ‘এসডিজির ১০ নম্বর অভীষ্ট সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য ও অসমতা দূর করা। আমাদের সুযোগের অসমতা দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি বলেন, দেশে বৈষম্য বাড়ছে। আর এই বৈষম্যটা বহুমাত্রিক। তবে শহরের চেয়ে গ্রামে এটি বেশি। আয় বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজির লক্ষ্য হলো ১৬৯টি। সরকার সব সমভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না সম্পদের অভাবে। তাই সরকার প্রাথমিকভাবে ৩৯টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই করা হয়েছে। এসডিজি শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে বাস্তবায়নের বিষয় নয়, দেশের সব অঞ্চলে বাস্তবায়নের ওপর সরকার জোর দিচ্ছে।’

ড. তৌহীদ রেজা নূর টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ৮-এর ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের একটি অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান ও পরিপূর্ণ কর্মপরিবেশ। এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম বলেন, অসমতা দূর করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এসডিজির লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনজিওগুলো তাদের কাজের বিন্যাস ঘটাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘আমরা সব সময় বলি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। কিন্তু সেটা কিভাবে বাড়াতে হবে, তা ঠিক করতে হবে। মানুষকে কেন্দ্র করেই প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়া সাজাতে হবে। ধনীদের নিয়ে ভাবনার দরকার নেই। ভাবতে হবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে।’


মন্তব্য