kalerkantho


এনবিআর চেয়ারম্যান

বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব হবে আগামী বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব হবে আগামী বাজেট

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি আগামী বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়াতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের ওপর চাপ বাড়ছে। এ জন্য রাজস্ব আদায়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেননা বিনিয়োগ বাড়লে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্সের (ফিকি) মধ্যাহ্নভোজসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। ফিকির সভাপতি শেহজাদ মুনীমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা উন্নতমানের পণ্য কিনতে চায়। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশে শিল্প স্থাপনের সুযোগ নিতে পারে। তাই স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করবে এনবিআর।

স্বাগত বক্তব্যে ফিকির নবনির্বাচিত সভাপতি শেহজাদ মুনীম বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া এত বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ সম্ভব নয়। এত বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার দুটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে পারে। প্রথমত, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে ব্যবসারত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ দেওয়া। এ ধরনের সুযোগ পেলে ব্যবসারত বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি বিনিয়োগ করবেন। এ দুই ক্ষেত্রেই এনবিআরকে সহযোগিতা করতে হবে।

চেম্বারের সদস্যদের দেশের অর্থনীতিতে অবদান তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, গত চার-পাঁচ বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে। এ বাজেটের রাজস্ব আয়ের ৩০ শতাংশ ফিকির সদস্যরা দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ট্যাক্স-ভ্যাট প্রদানকারী পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটিই ফিকির।

এরপরই আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস আইনে বিদ্যমান ব্যাবসায়িক প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন ফিকির ট্যাক্সেশন বিষয়ক সাবকমিটির আহ্বায়ক আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে করপোরেট কর হার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশ বিনিয়োগ বাড়াতে করপোরেট ট্যাক্স কমিয়েছে। পাশের দেশ ভারতও সে নীতি অনুসরণ করছে; কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না।’ ফিকির সাবেক সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, দেশে অনেক আইন আছে, কিন্তু সেটির বাস্তবায়নেও সমস্যা আছে। নীতির ধারাবাহিকতারও অভাব আছে। ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন করা হয়, যা ব্যবসা সহায়ক নয়।

এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। করদাতাদের হয়রানি না করতে অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য