kalerkantho


অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের

অর্থনীতিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার বাইরে রাখুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অর্থনীতিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার বাইরে রাখুন

ডিসিসিআইয়ের ৬০ বছর উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের মিলনমেলায় সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম খানসহ অন্যরা

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ২০৩০ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নে অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান। সংগঠনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী জুলাই মাসে এ জন্য এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল শনিবার সংগঠনের ৬০ বছর উপলক্ষে রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে ব্যবসায়ীদের এক মিলনমেলায় এই কথা জানান সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম খান। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আমাদের স্বপ্ন ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যআয়ের দেশ। ২০৪০-এ উন্নত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ। এ ছাড়া সংগঠনের রূপকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০তম বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশে উন্নীত হওয়া। ২০১০ সালে এই রূপকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

এই রূপকল্প বাস্তবায়নে তিনি বলেন, আগামী চার-পাঁচ বছরে দেশের মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হার ৭.৪ থেকে ৯-১০ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। এটা হওয়ার জন্য প্রয়োজন দেশের অবকাঠামো খাতের উন্নতি। বর্তমানে এ খাতে মোট জিডিপির ৩ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ বিনিয়োগ করছে। এটাকে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। উন্নত দেশগুলো এ খাতে বিনিয়োগ করে ১০ থেকে ১২ শতাংশ।

চট্টগ্রামের ঐহিত্যবাহী মেজবানের মাধ্যমে শুরু হওয়া ডিসিসিআইয়ের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, আইসিসি সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা, সরকারের আমলা, সাংবাদিকসহ সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আগত অতিথিদের বরণ করেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. আবুল কাশেম খান ও সংগঠনের অন্য নেতারা।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, জুলাই মাসে একটি বড় অনুষ্ঠান হবে। এতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে ৫টি থিমের ওপর আলোচনা করা হবে। এগুলো হলো ইনফ্রাস্ট্রাকচার বাংলাদেশ, এসডিজি বাংলাদেশ, মেইড ইন বাংলাদেশ, বিল্ডিং বাংলাদেশ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ। এতে ৬০ বছর পূর্তি হিসেবে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানও করা হবে। দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ৫টি ক্যাটাগরিতে ঢাকা চেম্বার বিজনেস অ্যাওয়ার্ড দেবে।

গত ৬০ বছরে সংগঠনের প্রাপ্তির কথা জানতে চাইলে আবুল কাশেম খান বলেন, অনেক কিছুই আমরা করেছি, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ করাতে ব্যাকিং এবং টেলিকমিউনিকেশন খাত নিয়ে ডিসিসিআই অনেক কাজ করেছে। পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহায়তা করা হয়েছে। আমাদের পরামর্শে ব্যবসায়ীদের সরকার ট্যাক্স কার্ড দিয়েছে। প্রতিবছরই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে সরকারকে অনেক নীতিগত পরামর্শ দেওয়া হয় চেম্বারের পক্ষ থেকে।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন কি না জানতে চাইলে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অর্থনীতিকে জিম্মি করে, ‘এমন কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা আমরা চাই না’। তাই সব রাজনীতিবিদের কাছে প্রত্যাশা অর্থনীতিকে রাজনীতির অস্থিরতার বাইরে রাখবেন। তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচন হবে, এটা ধারাবাহিক। এটা যেন সুষ্ঠু সুন্দরভাবে হয়। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট আছে কি না জানতে চাইলে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাঁরা বলেছেন, যদি কোনো তারল্য সংকট থাকেও, তাহলে এটা সাময়িক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হলেও এটা সার্বিকভাবে নয় বলে তাঁরা জানান।



মন্তব্য