kalerkantho


অর্থপাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা

ফারজানা লাবনী   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অর্থপাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা

অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে। সেই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানিতে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা থাকবে, রাজস্ব অব্যাহতির ক্ষেত্র ও পরিমাণ কমানো হবে, নতুন কর আরোপের চেয়ে কর জালের বিস্তারে বেশি গুরুত্ব থাকবে এবং অনলাইনে ভ্যাট আদায়ে চেষ্টা থাকবে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

গতকাল সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রাজস্ব ঘাটতি পূরণ, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, রাজস্ব ফাঁকিবাজ চিহ্নিত করতে অভিযান পরিচালনা, বড় বড় রাজস্ব ফাঁকিবাজদের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেলে তথ্য-প্রমাণ দুদকে (দুর্নীতি দমন কমিশন) পাঠানোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ বৈঠকে আগামী অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট নিয়েও আলোচনা হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান আগামী বাজেট নিয়ে প্রাথমিক গাইড লাইন দেন এনবিআর কর্মকর্তাদের। সরকারের এ দুই নীতিনির্ধারকের দেওয়া গাইড লাইন নিয়েও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত এনবিআর কর্মকর্তারা আগামী বাজেটকে নির্বাচনকালীন বাজেট বলে অভিহিত করেন। এ বাজেটে সরকার বিতর্কিত হতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রসঙ্গত, আগামী অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের মেয়াদে আগামী বাজেটের অর্ধেক সময় এবং নতুন সরকারের মেয়াদে অর্থবছরের বাকি সময় থাকবে।

বৈঠকে আগামী অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের শুল্ক খাত নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে শুল্ক স্তর সমন্বয়ে কতটা হ্রাস-বৃদ্ধি প্রয়োজন খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে পানামা-প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশিদের নাম থাকাসহ দেশ থেকে কোন কোন কৌশলে অর্থপাচার বেশি হচ্ছে, পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে এনবিআরের কার্যকরী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা হয়। যেসব বাংলাদেশির নাম এসব কেলেঙ্কারিতে এসেছে তাদের ব্যক্তিগত কর নথি এবং ব্যবসায়িক হিসাব আরো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সিদ্বান্ত নেওয়া হয়। আগামী বাজেটে অর্থপাচার বন্ধে এবং পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে কঠোর নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করতে বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা একমত হন। অর্থপাচার বন্ধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল গ্রহণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালনার পক্ষে কর্মকর্তারা জোরালো বক্তব্য দেন। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে অর্থপাচারের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরসহ সব শুল্ক স্টেশনে পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া আরো গতিশীল করতে আগামী বাজেটে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নিয়েও বৈঠকে কথা হয়। অপ্রদর্শিত অর্থ নিয়ে চলতিবারের ধারা আগামী অর্থবছরেও বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী অর্থবছরে অনলাইনে ভ্যাট আদায় কার্যক্রম সম্পূর্ণ চালু করা সম্ভব কি না তা নিয়েও কথা হয়। আগামী জুলাই থেকে অনলাইনে ভ্যাট আদায় সম্ভব হচ্ছে এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এনবিআরের আগামীবারের ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত বলে কর্মকর্তারা আলোচনা করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ভ্যাট খাতে এবারের ধারাবাহিকতায় অধিকাংশ পদক্ষেপ বহাল রাখা হবে। নির্বাচনকালীন বাজেটে ব্যবসায়ীদের মতামত উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। বিশেষভাবে অনলাইন ভ্যাট আদায় চালু হলেও প্যাকেজ ভ্যাটের বিধান বাতিলের সুযোগ নাই বলে মতামত দেন বৈঠকে উপস্থিত অনেক কর্মকর্তা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে আয়কর আইন অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা ছিল। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের প্রস্তুতি কতটা সম্পন্ন হয়েছে তা নিয়ে এনবিআরের এ বৈঠকে কথা হয়।



মন্তব্য