kalerkantho


পর্ষদের সভা আজ

চীনা এক্সচেঞ্জকেই কৌশলগত অংশীদার চায় ডিএসই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চীনা এক্সচেঞ্জকেই কৌশলগত অংশীদার চায় ডিএসই

কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনা শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকেই পেতে চায় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর ডিএসইর পর্ষদ চীনা দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে অনুমোদনও দিয়েছে। সেই বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব এখনো পাঠায়নি ডিএসই। আজ সোমবার আবারও বিকেল ৩টায় পর্ষদ সভা ডেকেছে ডিএসই। এদিকে কৌশলগত অংশীদার নিয়ে চীন-ভারতের টানাটানির খবরে পুঁজিবাজারে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। শেয়ার বিক্রির চাপে দুই পুঁজিবাজারে বড় পতন ঘটেছে। ডিএসইর সূচক কমেছে ৯৯ পয়েন্ট আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক কমেছে ১৭৮ পয়েন্ট। একই সঙ্গে বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দামও নিম্নমুখী।

কৌশলগত অংশীদার নির্ধারণে শেয়ারের দাম ও কারিগরি সহায়তায় ‘আকর্ষণীয়’ প্রস্তাব মনে হওয়ায় চীনা কনসোর্টিয়ামকে বেছে নেওয়া হয়। ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাশডাক ত্রিদেশীয় কনসোর্টিয়াম ‘কম’ দাম প্রস্তাব করে অংশীদার পেতে নানান চেষ্টা চালায়। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেন ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সিইও। বিএসইসিও ডিএসইর চেয়ারম্যান ও এমডিকে ডেকে নিয়ে বৈঠক করে। অংশীদার পেতে ডিএসইর ওপর চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ ওঠে।

জানা যায়, কৌশলগত অংশীদার বাছাই এক সপ্তাহ হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি কমিশন। ডিএসই পর্ষদ বাছাই করলেও অংশীদারের চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে কমিশন। আজ ডিএসইর পর্ষদ সভায় সিদ্ধান্ত হতে পারে প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে। অংশীদার বাছাইয়ে চাপ ও অনৈতিক হস্তক্ষেপ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কমিশন বলেছে, টিআইবি না জেনেই এমন বক্তব্য দিয়েছে, যা তাদের কাছ থেকে আশা করি না। চাপ কিংবা অনৈতিক প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো প্রমাণ থাকলে চেয়েছে কমিশন।

ডিএসই সূত্র বলছে, চীনা দুই প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব আকর্ষণীয়। পর্ষদের অনুমোদনের পর ডিএসইর চেয়ারম্যান ও এমডিকে ডেকে নিয়ে নানা কথা বলা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বা লিখিতভাবে কোনো চাপ দেয়নি এটা ঠিক তবে ভারতীয় কনসোর্টিয়ামকে দেওয়ার পক্ষেও নানা কথা বলা হয়েছে। যার জন্যই প্রস্তাব পাঠাতে দীর্ঘায়িত হয়েছে।

ডিএসইর এক পরিচালক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, চীনা দুই প্রতিষ্ঠানই যুক্তিযুক্ত। তাদের প্রস্তাব আকর্ষণীয় হওয়ায় আমরা তাদের বেছে নিয়েছি। এখন চূড়ান্ত করতে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। আমরা আশা করি কমিশন আমাদের প্রস্তাবে সায় দেবে।’

কী বিষয়ে পর্ষদ সভা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী নিয়ে কী কী করা যায় আর যেসব ঘটনা ঘটে গেছে সেসব নিয়ে আলোচনা হবে। প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

গতকালের বাজার : কৌশলগত অংশীদার বাছাইয়ে চাপ ও টানাটানির বিষয়ে বিনিয়োগকারীর মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার শেয়ার বিক্রির চাপে প্রায় ১০০ পয়েন্ট সূচক কমেছে। যদিও চীনা বিনিয়োগকারী আসার খবরে এক দিনেই সূচক ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছিল। রবিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৪০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ৯৯.৪৪ পয়েন্ট। যদিও আগের দিন বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৫১২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছিল ৫২ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর থেকে শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক নিম্নমুখী হয়, যা দিনভর চলতে থাকে। এতে সূচক কমার মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৯৫০ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৩৭ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ১৯৩ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৩৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৩৫ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৯টির, কমেছে ২৭০টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭ কম্পানির শেয়ারের দাম।

ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে রয়েছে ফু-ওয়াং ফুড। কম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনিক হোটেলের লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, আর তৃতীয় স্থানে থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। অন্যান্য শীর্ষ কম্পানি হচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণফোন, মুন্নু সিরামিক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ফু-ওয়াং সিরামিক, কেয়া কসমেটিক্স ও আলিফ ইন্ডাস্টিজ।

অপর বাজার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৫ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ১৭৮ পয়েন্ট। রবিবার লেনদেন হওয়া ২২৭ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩০টির, দাম কমেছে ১৮২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫ কম্পানির শেয়ারের দাম।


মন্তব্য