kalerkantho


এফবিসিসিআই ও টিবিবিসির আলোচনাসভা

যৌথ বিনিয়োগে তুরস্ককে কারখানা স্থাপনের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যৌথ বিনিয়োগে তুরস্ককে কারখানা স্থাপনের আহ্বান

তৈরি পোশাক, চামড়া, তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে তুরস্ক এবং বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগ কারখানা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এফবিসিসিআই (ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি)। এ ছাড়া এফবিসিসিআই তুরস্কের প্রযুক্তি ও সম্ভাবনাময় শিল্প-কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার এফবিসিসিআই এবং তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (টিবিবিসি) নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভায় এসব বিষয় উঠে আসে। এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সভায় উপস্থিত ছিলেন। টিবিবিসির চেয়ারপারসন লোরা গক তুরস্ক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় বাংলাদেশে তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মুরাত ইয়ারাত এবং টিবিবিসির সহকারী সমন্বয়ক তুলিন এ্যাভসি উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি তৈরি পোশাক, চামড়া, তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে তুরস্ক এবং বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগ স্থাপনের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ প্রকাশ করেন। দেশের দ্রুত বর্ধমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শফিউল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ হারে অর্জিত হচ্ছে, যা গত দুই বছরে ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। সরকারের দেওয়া আকর্ষণীয় বিনিয়োগ সুবিধা, যেমন—ট্যাক্স হলিডে, দ্বৈত করের ক্ষেত্রে সুবিধা, করপোরেট কর সুবিধা ইত্যাদি গ্রহণ করে তিনি তুরস্কের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বা এর বাইরে সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারপারসন লোরা গক বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে আরো পণ্য আমদানির বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরো উন্নত করতে দুই পক্ষকে নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, এফবিসিসিআই এবং টিবিবিসির মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক ইতিপূর্বে স্বক্ষরিত হয়েছে তা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে, যার ফলে দুই দেশের সম্ভাবনাময় বাজার এবং বিনিয়োগের সম্ভাব্য খাতগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬৩১.৬৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য তুরস্কে রপ্তানি করে এবং তুরস্ক থেকে ২১২.৩০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো হচ্ছে ওভেন গার্মেন্ট, পাট ও পাটজাত পণ্য, নিটওয়্যার, ম্যানমেড ফিলামেন্টস অ্যান্ড স্টেপল ফাইবারস, সিরামিক পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল। আর তুরস্ক থেকে মূলত যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিকসামগ্রী, বস্ত্র, রাসায়নিক উপাদান, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি আমদানি করা হয়।

 


মন্তব্য