kalerkantho


আইন না মানা পরিচালকদের তালিকা প্রস্তুত

২% শেয়ার ধারণ না করায় ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



২% শেয়ার ধারণ না করায় ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি

পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত কম্পানির ২ শতাংশের চেয়ে কম শেয়ারধারী উদ্যোক্তা ও পরিচালককে এবার আইনের মুখোমুখি করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত যেসব পরিচালকের শেয়ারধারণ এই নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কম তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের সভাকক্ষে চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান। কোন কোন কম্পানির পরিচালকরা ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এরই মধ্যে সেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখন ব্যবস্থা নিতে কমিশনের এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

২০১১ সালের ২২ নভেম্বর কমিশনের এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ যৌথভাবে মালিকানা থাকবে স্পন্সর ও পরিচালকের। যদি এই পরিমাণের চেয়ে কম শেয়ার থাকে তবে ছয় মাসের মধ্যেই অবশিষ্টাংশ শেয়ার কিনতে হবে। শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত তারা কোনো শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবে না। এমনকি রাইট শেয়ার ইস্যু করতে পারবে না। আর স্বতন্ত্র পরিচালক ছাড়া প্রত্যেককে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে আর না করলে সেই পদ খালি হিসেবে গণ্য করা হবে।

তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই শর্ত ভঙ্গ করেছে কিছু কম্পানি। সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার আর প্রত্যেক পরিচালক ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেনি। যার জন্য এবার আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন।

কমিশন প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত সব পরিচালকের জন্য সর্বদা কম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ২ শতাংশ শেয়ারধারণ বাধ্যতামূলক। যেসব পরিচালক কম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ২ শতাংশ শেয়ার ধারন না করে কম্পানির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই বিষয়টি এনফোর্সমেন্ট বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া উপরোক্ত প্রজ্ঞাপনের বিধান মোতাবেক যেসব কম্পানির স্পন্সর ও পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে সর্বদা পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব কম্পানির স্পন্সর ও পরিচালকদের শেয়ারধারণ নিশ্চিতে একটি নির্দেশনা জারিরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আমান কটনের আইপিও : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে মূলধন উত্তোলনের জন্য বস্ত্র খাতের আমান কটন ফাইবার্স প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পেয়েছে। কম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ৮০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। যার জন্য দুই কোটি আট লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ শেয়ার ইস্যু করবে। এর মধ্যে এক কোটি ২৫ লাখ শেয়ার ৪০ টাকা মূল্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা আর সেখান থেকে ১০ শতাংশ কম দামে ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ শেয়ার ৩৬ টাকা মূল্যে পাবে সাধারণ বিনিয়োগকারী। আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়, ব্যাংকঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খাতে ব্যয় করবে।

১০০ কোটি টাকার ফান্ড অনুমোদন : এসইবিএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এই ফান্ডটির লক্ষ্যমাত্র ১০০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে উদ্যোক্তা এফবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড ১০ কোটি টাকা ও প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ৩৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। বাকি ৫৫ কোটি টাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলন করা হবে। ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

 

 



মন্তব্য