kalerkantho


এক বছরেই আমদানি কমে অর্ধেক

বছরে সাত কোটি টাকার কৃত্রিম ফুল আমদানি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বছরে সাত কোটি টাকার কৃত্রিম ফুল আমদানি

ঘর সাজানো এবং উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে বাহারি রকমের কৃত্রিম ফুল ব্যবহূত হয়। আর সেগুলোর প্রায় শতভাগই আমদানি হচ্ছে চীন থেকে। কনটেইনার ভর্তি হয়ে জাহাজে আসা এসব ফুল কী পরিমাণ আমদানি হচ্ছে এবং এর মূল্যই বা কত এর সঠিক কোনো হিসাব নেই কোনো সংস্থার কাছে। তবে কালের কণ্ঠ খোঁজ নিয়ে বের করেছে এগুলোর পরিমাণ বছরে সাত কোটি টাকার বেশি।

কৃত্রিম ফুল আমদানিকারকরা বলছেন, দুই বছর আগে এ ধরনের ফুল আমদানির পরিমাণ ছিল এর দ্বিগুণ, অর্থাত্ বছরে ১৫ কোটি টাকার বেশি। গত বছর ২০১৭ সাল থেকে সেগুলো আমদানির পরিমাণ কমে অর্ধেকে নেমেছে।

আমদানি কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্যানসুই ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার উত্তম কমার বণিক কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন বছরে আমদানি ২৫ থেকে ৩০ কনটেইনারের বেশি হয় না। দুই বছর আগেও আমদানির পরিমাণ ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। ঢাকার দুজন বড় আমদানিকারক বছরে আমদানি করতেন ১০ থেকে ১২ কনটেইনার।

তিনি বলছেন, ঢাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারের দুজন বড় ফুল আমদানিকারক এখন তিন মাসে মাত্র দুই থেকে তিন কনটেইনার আমদানি করছেন। আগে প্রতি চালানেই তাঁরা আনতেন ছয়-সাত কনটেইনার।

আমদানি কমার কারণ হিসেবে উত্তম কুমার বণিক বলছেন, নগদ মূল্যে কিনে এনে বাকিতে বিক্রি করতে গিয়ে বিপুল টাকা বাজার থেকে উঠে আসেনি। এই কারণে বাধ্য হয়েই অনেক ব্যবসায়ী আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমের হিসাবে, বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কৃত্রিম ফুল আমদানি হয়েছে ১৩ কনটেইনার। সে হিসেবে পুরো অর্থবছরের আমদানি হতে পারে ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ কনটেইনার। চট্টগ্রাম কাস্টম কর্তৃপক্ষ এসব ফুল আমদানিতে শুল্ক নির্ধারণ করেছে প্রায় ৯০ শতাংশ। আর প্রতি কেজির সর্বনিম্ন শুল্কায়ন মূল্য হচ্ছে দেড় ইউএস ডলার বা ১২৩ বাংলাদেশি টাকা।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বলছেন, প্রতি ২০ ফুট কনটেইনারে ৪-৫ টন; আর ৪০ ফুট কনটেইনারে সর্বোচ্চ সাত টন কৃত্রিম ফুল থাকে। শুল্ক করসহ প্রতি কনটেইনারের মূল্য দাঁড়ায় ২৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে ৩০ কনটেইনারে ফুলের দাম হচ্ছে সাড়ে সাত কোটি টাকা।

আমদানিকারকরা বলছেন, প্রায় শতভাগ কৃত্রিম ফুল আমদানি হয় চীন থেকে কনটেইনারে করে। ভারত বা থাইল্যান্ড থেকে আসা ফুল সেই বাজার দখল করল কি না, জানতে চাইলে কৃত্রিম ফুলের বড় আমদানিকারক বিসমিল্লাহ টাওয়ারের ফুলের ডালির রফিক হোসেন বলছেন, চীন থেকে যে দামে ফুল আসে এই দামে অন্য কোনো দেশ থেকে আসার সুযোগ নেই। ভারত ও থাইল্যান্ড থেকেও কিছু ফুল আসে; কিন্তু সেগুলো হাতে গোনা আর সেগুলো আসে বিমানে করে। সুতরাং চীনের ফুলের সঙ্গে সেগুলোর দামের পার্থক্যও অনেক। আর ক্রেতাও ভিন্ন।

রিয়াজ উদ্দিন বাজারের গোলাম রসুল মার্কেটের ফুল ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলছেন, ‘বাজারে কৃত্রিম ফুলের বেচাকেনা কমে গেছে। এ জন্য আমরা আগে শুধু ফুল বিক্রি করলেও এখন সঙ্গে অন্যান্য ঘর সাজানোর জিনিসপত্র বিক্রি করছি।’

বিক্রি কমার কারণ হিসেবে তিনি বলছেন ফুটপাত থেকে শুরু করে ভ্যান গাড়িতে এখন এই ধরনের দেশে তৈরি ফুল বিক্রি হচ্ছে। সেগুলো দেখতে একই রকম হলেও নিম্নমানের এবং দামও অনেক কম। এটি বাজারে প্রভাব পড়েছে।



মন্তব্য