kalerkantho


ভালোবাসা দিবসে বাণিজ্যের পসরা

ফারজানা লাবনী   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভালোবাসা দিবসে বাণিজ্যের পসরা

ভালোবাসা দিবসে সবার পছন্দ গোলাপ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে পোশাক, প্রসাধনী, জুয়েলারি, কার্ড, শোপিসসহ বিভিন্ন উপহার বিক্রি বেড়েছে। বয়সে তরুণ-তরুণীরা এসব কিনছে বেশি। ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে উপহার দিতেই এ কেনাকাটা, জানালেন অনেকে। ক্রেতার চাহিদা বিবেচনায় রেখে বিক্রেতারাও নিয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠান ভালোবাসা দিবসের এ কেনাকাটায় ক্রেতা টানতে দিয়েছে মূল্য ছাড়, বিভিন্ন অফার। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো ভালোবাসা দিবসের জন্য নিয়মিত আয়োজনের পাশাপাশি রকমারি মজাদার খাবার বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর ধানমণ্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, বারিধারা, পান্থপথ, নিউ মার্কেট, ফার্মগেট, উত্তরা, সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। ব্যবসায়ীরা আশা করছে, প্রতিবছরের চেয়ে এবার ভালোবাসা দিবস ঘিরে বাণিজ্য বাড়বে। ভালোবাসা দিবসের পাঁচ-সাত দিন আগে থেকে উপহার বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ দোকানগুলোতে নিয়মিত বিক্রির চেয়ে ৪০ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে বলে জানায় তারা।

রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় বসুন্ধরা শপিং মলে ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনের জন্য উপহার কিনতে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইফ রহমান শুভ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসে আমার বান্ধবীর জন্য এক সেট সালোয়ার-কামিজ, একটি পারফিউম, এক জোড়া কানের দুল উপহার হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব কেনার পরিকল্পনা আগেই করেছি। এ জন্য পাঁচ হাজার টাকা গুছিয়েছি।’

শুভ আরো বলেন, ‘আমার বন্ধু ও বান্ধবীদের সবাই এ দিবসের জন্য কেনাকাটা করছে। আশা করছি আমিও এ দিবসে উপহার পাব।’

ভালোবাসা দিবসের জন্য ধানমণ্ডির আড়ং থেকে একই ডিজাইনের পাঁচটি পুঁতির ব্রেসলেট কিনেছে সেমন্তী। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই তরুণী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসে আমার স্কুলজীবনের পাঁচ বান্ধবীর জন্য একই রকম ব্রেসলেট কিনেছি। এ দিবসে ওরাও আমাকে বিভিন্ন উপহার দিয়ে থাকে।’

মিরপুর আড়ংয়ের এক বিক্রয়কর্মী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পহেলা বসন্ত এবং ভালোবাসা দিবস পরপর উদ্যাপিত হয়। এ দুই দিনকে ঘিরে আড়ংয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। এসব পোশাকের ক্রেতা অনেক।’

ব্যাংক কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই বছর আমাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। ভালোবাসা দিবসে আমরা একে অন্যকে উপহার দিয়ে আসছি পরিচয়ের পর থেকেই। এবারও আমার স্ত্রীর জন্য দুই সেট সালোয়ার-কামিজ কিনেছি।

ভালোবাসা দিবসের উপহারের সঙ্গে থাকে ফুল। তাই ভালোবাসা দিবসের বাড়তি চাহিদা পূরণে ফুল বিক্রেতারাও অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি ফুল সংগ্রহে ব্যস্ত।

নামিদামি হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সাধারণ মানের অনেক খাবারের দোকানে ভালোবাসা দিবসের বাড়তি ক্রেতা সামলাতে সাময়িক বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দোসা হাউসের বিক্রয়কর্মী সোহেল মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসে বিকেলের দিকে ভিড় বাড়ে। অনেকেই বন্ধুবান্ধব নিয়ে খেতে আসে। বেশি বেশি আয়োজনের পরও গতবার রাত ৯টার পর খাবার শেষ হয়ে যায়। এবার আগে থেকেই সব জোগাড় করে রেখেছি।’

রাজধানীর গুলশানে পিংক সিটিতে অবস্থিত ‘বেটন রোজ’ রেস্তোরাঁর বিক্রয়কর্মী সানোয়ার কালের কণ্ঠকে জানান, ভালোবাসা দিবসে বেটন রোজের নিয়মিত আয়োজন ১০১ ধরনের খাবারের পাশাপাশি বিশেষ ধরনের মজাদার সুস্বাদু খাবার থাকে। তবে এর জন্য বাড়তি কোনো মূল্য ধরা হবে না। নিয়মিত খাবারের সঙ্গে এসব খাবার পরিবেশন করা হবে।’ এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর বলেন, ভালোবাসা দিবসে এপেক্স থেকে বিশেষ অফার দেওয়া হবে। ২০০১ টাকার কেনাকাটা করলে তাত্ক্ষণিক ক্যাশব্যাক করা হবে। এ অফার ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেওয়া হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্রেতার চাহিদা থাকলে বিক্রেতাদেরও প্রস্তুতি থাকে। ভালোবাসা দিবসে অনেকেই উপহার কিনতে আসছে। তাই বিশেষ কিছু পণ্যের বিক্রি বাড়ছে। এতে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে এ দিবসকে ঘিরে কত টাকার বাণিজ্য হচ্ছে তার সঠিক হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশেষ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ কেনাকাটা হচ্ছে বলে ধারণা করা যায়। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে ভালোবাসা দিবসগুলোতে এ কেনাকাটা আরো বাড়বে।

 


মন্তব্য