kalerkantho


৮২% সম্পদ ১% ধনীর হাতে

বিশ্বের অর্ধেক মানুষের কোনো সম্পদ বাড়েনি গত বছর

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



৮২% সম্পদ ১% ধনীর হাতে

বিশ্বে ধনী-দরিদ্রের বিস্তর ব্যবধান ফুটে উঠেছে কার্টুনটিতে

বিশ্ব অর্থনীতি যখন মন্দায় পতিত হয় তখন চাকরি হারায় সাধারণ মানুষ, আর সেই অর্থনীতি ফুলেফেঁপে উঠলে লাভের অঙ্ক যায় সম্পদশালীদের পকেটে। এভাবেই বিশ্ব জিডিপি প্রবৃদ্ধির হাত ধরে বাড়ছে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য। গত বছর বিশ্বে যে পরিমাণ সম্পদ তৈরি হয়েছে তা থেকে সামান্যটুকুও পায়নি বিশ্বের অর্ধেক মানুষ। যদিও ৮২ শতাংশ সম্পদের মালিকানা গেছে মাত্র ১ শতাংশ ধনীর হাতে।

গতকাল সোমবার অসমতা নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ‘সম্পদ নয়, পুরস্কার কাজ’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালেও বিশ্বের শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর হাতে ছিল ৪৫ শতাংশ সম্পদ। প্রায় দুই দশকের ব্যবধান সেই বৈষম্য এখন আরো বেড়েছে। ৮২ শতাংশ সম্পদই এখন ১ শতাংশ ধনীর হাতে।

গত বছর বিশ্বে রেকর্ডসংখ্যক বিলিয়নেয়ার তৈরি হয়। প্রতি দুই দিনে একজন বিলিয়নেয়ার তৈরি হয়। তাদের সম্পদও বেড়েছে ৭৬২ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৩ জন। যাদের ৯০ শতাংশ পুরুষ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ একজন সাধারণ কর্মীর চেয়ে ছয় গুণ বেশি বেড়েছে ২০১০ সাল থেকে। এতে বৈষম্যের একটি উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ একজন গার্মেন্টকর্মী পুরো জীবনে যা আয় করে, তা আয় করতে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ফ্যাশন ব্র্যান্ডের একজন সিইওর সময় লাগে মাত্র চার দিন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে একজন সাধারণ শ্রমিক এক বছরে যা আয় করে, তা আয় করতে একজন সিইওর সময় লাগে মাত্র এক দিন।

অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক উইনি বায়ানিমা বৈষম্যের এ প্রবণতাকে বিশ্ব অর্থব্যবস্থা ভেঙে পড়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদেন ঘাম ঝরিয়ে যারা আমাদের জামাকাপড় তৈরি করে, ফোন সংযোজন করে এবং খাদ্য উৎপাদন করে তারা শুধু সস্তা পণ্য তৈরিতে ব্যবহার হয়। এতে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা এবং বিলিয়নেয়ারদের বিনিয়োগ ফুলেফেঁপে ওঠে।’

বিশ্বে অর্থনৈতিক অসাম্যের কারণ হিসেবে অক্সফাম মনে করে, কর ফাঁকি, শ্রমিক অধিকার পুরোপুরি না মানা, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। সরকারগুলোর প্রতি প্রতিষ্ঠানটির পরামর্শ হচ্ছে, করায়ন এবং সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে সম্পদের পুনর্বণ্টন, মজুরি প্রদানে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং ন্যূনতম মজুরির পরিবর্তে বসবাসের উপযোগী মজুরিতে গুরুত্ব দেওয়া। এ প্রতিবেদনে তথ্য নেওয়া হয়েছে ‘ক্রেডিট সুইসের গ্লোবাল ওয়েলথ ডাটাবুক ২০১৭’ থেকে। বিবিসি, রয়টার্স।


মন্তব্য