kalerkantho


রাশিয়ার প্রতিনিধিদলকে বাণিজ্যমন্ত্রী

শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধা দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিপুল সম্ভাবনাময় বাজার হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর রাশিয়ার আরোপ করা শুল্ককর ও আর্থিক লেনদেনে জটিলতার কারণে দেশটিতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রপ্তানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। এ অবস্থায় রাশিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

গতকাল সচিবালয়ে সফররত রাশিয়ার কৃষিবিষয়ক উপমন্ত্রী লেভিন সারজে এলভোভিসের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তোফায়েল আহমেদ এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। কিন্তু দেশটির আরোপিত শুল্ক ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতার কারণে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশ প্রত্যাশামতো পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাশিয়া বাংলাদেশের মাত্র ৭১টি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা দিয়েছে; কিন্তু এই ৭১ পণ্যের তালিকায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক নেই।

রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে আর্থিক লেনদেন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, লেনদেন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করার আগ্রহ হারাতে পারে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সমস্যা দূর করতে বাংলাদেশ ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সদস্য হতে সমঝোতা চুক্তি সই করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ এই কমিশনের সদস্যপদ লাভ করবে। তখন রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে জটিলতা থাকবে না বলে জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ রাশিয়ায় ৪৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে আমদানি করেছে ৪৪ কোটি ডলারের পণ্য।

কিছুদিন আগে ডাব্লিউটিওর সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল লেমি বাংলাদেশ সফর করেন। তখন ২০২৫ সালের ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো’ আয়োজনে ফ্রান্সের পক্ষে ভোট দিতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানান তিনি। সফররত রাশিয়ার উপমন্ত্রীও ওই নির্বাচনে রাশিয়ার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। রাশিয়াও ওয়ার্ল্ড এক্সপো আয়োজন করতে আগ্রহী। এটি আয়োজনে অন্য আগ্রহী দুই দেশ হলো জাপান ও আজারবাইজান।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হতে চায় রাশিয়া। এ বিষয়ে আগামী নভেম্বরে সিদ্ধান্ত হবে। বাংলাদেশ এ ফোরামের সদস্য। এ বিষয়ে রাশিয়া বাংলাদেশের সমর্থন চায়।



মন্তব্য