kalerkantho


শাহজালাল বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ

দ্রুত পিপিপিতে প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শাহজালাল বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে গতকাল পিপিপি নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলেছেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চললেও বিমানবন্দর এখনো মান্ধাতার আমলের রয়ে গেছে। বিমানবন্দরে নেমে পদে পদে ভোগান্তিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রথমেই নেতিবাচক ধারণার জন্ম নেয়। সরকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও বিমানবন্দরের উন্নয়ন গুরুত্ব পায়নি। বিমানবন্দরের সেবার মান ও অবকাঠামো উন্নয়নে পিপিপি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

গতকাল সোনারগাঁও হোটেলে এক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং ওয়াটারমার্ক এমসিএলের যৌথ আয়োজনে ‘পিপিপি বিনিয়োগ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের অবশ্য করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী  মো. আমিনুল ইসলাম।

প্যানেলে আলোচনায় বক্তব্য দেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিপিটিইউ, আইএমইডির মহাপরিচালক মো. ফারুক হোসাইন, বিআইএফএফএলের প্রধান পরিচলন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সগীর হোসাইন খান, অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল ইসলাম খান, প্রাইম ব্যাংকের এএমডি মো. তাবারক হোসেন ভূঞা, ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটালের এমডি এরশাদ হোসাইন, ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, কালের কণ্ঠ’র বিজনেস এডিটর মো. মাসুদ রুমী, ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি মুনিমা সুলতানা ও বণিক বার্তার ডেপুটি চিফ রিপোর্টার মো. বদরুল আলম।

ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান বলেন, ‘বিমানবন্দরের মতো একটি স্পর্শকাতর ইস্যুর কেন আমরা সমাধান করছি না। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৃথিবীর একমাত্র বিমানবন্দর, যেখানে কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেই। আস্থা রাখার মতো ট্যাক্সি সার্ভিস নেই। যেখানে লাগেজ কখন পাওয়া যাবে, বিমানবন্দর থেকে বের হতে কত সময় লাগবে, এর কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। আমাদের চেয়েও সক্ষমতা কম সেই নেপালের বিমানবন্দরেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় গণপরিবহন আছে; কিন্তু আমরা কেন পারছি না?’ তিনি বলেন, কালকে সকালে আপনি এয়ারপোর্টে বিনিয়োগ আহ্বান করেন, হাজার হাজার বিনিয়োগকারী ছুটে আসবে। তাহলে কেন দেওয়া হয় না? বিমানবন্দর কেন পিপিপির আওতায় হয় না? অবকাঠামো উন্নয়নে একটি ইন্টিগ্রেটেড মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘দুই ঘণ্টায় আমরা ব্যাংকক, মালয়েশিয়া থেকে চলে আসতে পারি; কিন্তু শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত অনেক সময় তিন ঘণ্টায়ও পৌঁছানো যায় না। পিপিপির ৪৭টি প্রকল্পের মধ্যে বিমানবন্দর নেই কেন?’

প্যানেল আলোচনায় কালের কণ্ঠ’র বিজনেস এডিটর মাসুদ রুমী বলেন, ‘সেবা খাতে পিপিপি প্রকল্প বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিমানবন্দরের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন ও রেলওয়েতে বড় বড় বিনিয়োগ পিপিপির মাধ্যমে আনতে হবে।’ তিনি বলেন, পিপিপির মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে সফলতা আনতে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ও নীতির ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। বিডা প্রতিষ্ঠিত হলেও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি এক ছাতার নিচে সব সেবা নিশ্চিত হয়নি।

পিপিপি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফসার এইচ উদ্দিন জানান, ২০২০ সালে খুলনা বিমানবন্দর নিয়ে একটি পিপিপি প্রকল্প আছে। তিনি বলেন, পিপিপি আইন ও গাইডলাইন তৈরি হয়েছে। অনেক প্রকল্প পাইপলাইনে আছে। এখন সবার সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমে একে আরো গতিশীল ও ফলপ্রসূ করে তুলতে হবে।       

বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তাই এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বর্তমান বছরপ্রতি ৩-৩.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম ১২ বিলিয়ন ডলার করা প্রয়োজন।



মন্তব্য